৩১ বছর ধরে ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই চলছে চবির সিনেট!

ঢাকা, বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

৩১ বছর ধরে ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই চলছে চবির সিনেট!

রুমান হাফিজ, চবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:০৪ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন হয়েছিলো ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিনেট অধিবেশন।

আগামীকাল শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপাচার্য সম্মেলন কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার’র সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের (৩৩তম) সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ-১৯৭৩’র ২২ ধারা অনুযায়ী ১০১ সিনেট সদস্যের পাঁচজনই হবেন ছাত্র প্রতিনিধি। কিন্তু চাকসু নির্বাচন না হওয়ায় সিনেটে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি নেই। 

বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘ বছর ধরে ছাত্র-প্রতিনিধিদের ছাড়াই সিনেট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরইফলে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটছে না। চাকসু ও হল সংসদ না থাকায় ক্যাম্পাসে যোগ্য ছাত্র নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। তেমনি সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডেও ভাটা পড়েছে। 

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ বডি সিনেট। এই সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নেই কয়েক যুগ ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় যদি গণতন্ত্র চর্চা না হয়, তবে তাদের কাছ থেকে মানুষ কী শিখবে। প্রশাসনিক দ্বায়িত্বে যারা আছেন তাদের উদাসিনতার জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না।

তবে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর উদ্যোগে চাকসু নীতিমালা বা গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটি তৈরির লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন মোহাম্মদ সফিউল আলম, সদস্যসচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নির্বাচন ও বিধিবিধান) মোহাম্মদ ইউসুফ এবং সদস্য আইন অনুষদরে ডিন এবিএম আবু নোমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি আমীর মুহাম্মদ নসরুল্লাহ ও সাবেক সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র। পর্যালোচনা কমিটির কাজ চলমান থাকতেই তৎকালীন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়। ফলে থমকে যায় চাকসু নির্বাচনের সব আয়োজন। 

এরপর উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে আসেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। রুটিন দায়িত্বে থাকায় তিনিও চাকসু নির্বাচনের কাজ এগিয়ে নিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আলোর মুখ দেখেনি চাকসু। এদিকে নির্বাচনের নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি কাজ শেষ করলেও জমা দিতে পারেননি প্রতিবেদন। 

পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, আমরা নির্বাচন সংক্রান্ত নীতিমালার কাজ শেষ করেছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। তবে প্রশাসন থেকে কেউ চায় নি সেজন্য আর জমা দেয়া হয়নি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম মনিরুল হাসান বলেন, চাকসু নির্বাচনতো বহু বছর ধরেই হচ্ছে না। সেজন্য ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই সিনেট অধিবেশন হয়ে আসছে। করোনার আগে নির্বাচন পর্যালোচনা কমিটি করা হয়েছিল কিন্তু করোনার কারণে তো তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমি নিজেও ছাত্র প্রতিনিধি থাকার পক্ষে। এই সিনেটে তো হচ্ছে না। আশাকরি আগামী দিনের সিনেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি থাকবে। 

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাড়া মিলেনি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের মনোনীত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন ও জিএস নির্বাচিত হন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রার্থী আজিম উদ্দিন। এ সময় দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একইবছর ২২ ডিসেম্বর ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডারদের হাতে নিহত হন বামপন্থি ছাত্রনেতা ফারুকুজ্জামান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসু কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম