ইডটকো টাওয়ার ডিজাইন প্রতিযোগিতায় চুয়েটের নজরকাড়া সাফল্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইডটকো টাওয়ার ডিজাইন প্রতিযোগিতায় চুয়েটের নজরকাড়া সাফল্য

সাঈদ চৌধুরী, চুয়েট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫১ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবির ক্যাপশন: উপরে বা থেকে টিম চুয়েট স্কোয়াডের সদস্য তামীম, এজাজ, তাওসীফ। নিচে বা থেকে টিম ভাইকিংসের সদস্য সম্রাট, আরাফ, নাহিদ।

ছবির ক্যাপশন: উপরে বা থেকে টিম চুয়েট স্কোয়াডের সদস্য তামীম, এজাজ, তাওসীফ। নিচে বা থেকে টিম ভাইকিংসের সদস্য সম্রাট, আরাফ, নাহিদ।

ইডটকো টাওয়ার ডিজাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুটি টিম এই প্রতিযোগীতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখলে নিয়েছে। প্রথম স্থান অর্জন করেছে ‘টিম চুয়েট স্কোয়াড’। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ‘টিম ভাইকিংস’। 

টিম চুয়েট স্কোয়াডের সদস্যরা হলেন পুরকৌশল বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এজাজ আহমেদ, তামীম আব্দুল্লাহ এবং শাহরিয়ার তাওসীফ। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন সার্টিফিকেটসহ ৫০ হাজার টাকা।

এজাজ আহমেদ বলেন, জার্নিটা শুরু হয়েছিল গত বছরের মার্চে। সবাই তখন গৃহবন্দি, সেইসময় ভেবেছিলাম কিভাবে টাওয়ার ফাউন্ডেশন দাঁড় করাতে হবে। বিএসসি লেভেলে আমাদেরকে স্টিল স্ট্রাকচার নিয়ে যতটুকু শেখানো হয়, তা দিয়ে একটা টাওয়ার দাঁড় করানো কখনই সহজ কাজ ছিল না। শুরুটা ছিল সব থেকে কঠিন। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন বিষয়টির মধ্যে ঢুকে পড়লাম, তখনই এর আসল মজাটা খুঁজে পেলাম। পুরো কাজটিই ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং আর এই চ্যালেঞ্জটা নিতেই সব থেকে বেশি আনন্দ পেয়েছি।

শাহরিয়ার তাওসীফ বলেন, এই প্রতিযোগিতার জন্য আমরা টাওয়ার এবং ফাউন্ডেশন ডিজাইন এর নতুন এমন তিনটি সফটওয়্যার শিখেছি যা হয়তো আমাদের শেখার কথা ছিল না, অনেক বেসিক লেখাপড়া করতে হয়েছে, অনেক বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে হয়েছে, যার ফলস্বরূপ আমরা একটি ৩৫ মিটারের টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ার এবং আরেকটি ১২ মিটারের মনোপোল এর সম্পূর্ণ ডিজাইন করতে পেরেছি, আর এটা আমাদের জন্য সম্পূর্ণ ‘আউট অফ দ্যা সিলেবাস’ ছিল।

টিম ভাইকিংস সদস্যরাও চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর আরাফ, নাহিদ হাসান এবং মো. রিয়াসাদ সম্রাট। তারা পেয়েছেন সার্টিফিকেটসহ ৩০ হাজার টাকা 

তানভীর আরাফ বলেন, টাওয়ারের ক্যাড প্ল্যান, আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, থ্রিডি মডেলের কাজ করেছিলাম যেখানে সাস্টেনিবিলিটি কনসেপ্ট যোগ করে সব ডিজাইন করাই ছিল আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের সমন্বয় ঘটানো সহজ ছিলো না কিন্তু টিম মেম্বারদের সাপোর্টের ফলে একটু ভিন্নধর্মী টাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ে ডিজাইন করতে সক্ষম হয় আমাদের টিম, যার ফল আমরা পেয়েছি।

নাহিদ হাসান জানায়, আমরা প্রথমে ওয়াইন্ড টার্বাইনের লোড ক্যালকুলেশন করে সফটওয়্যার দিয়ে টাওয়ারটি এনালাইসিস করি এবং বিভিন্ন লোড’র বিপরীতে টাওয়ারের উপর কিরুপ প্রভাব ফেলে তা হিসেব নিকেশ করি। সর্বশেষে সে সব লোড এর বিপরীতে যাতে টাওয়ারটি ফেইল না করে তার জন্য উপযুক্ত স্টিল সেকশন চয়েজ করি এবং মাটির উপরে টিকে থাকার জন্য উপযুক্ত  ফাউন্ডেশন ডিজাইন করি। মূলত প্রতিযোগিতার মূল ভিশনটা আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করে যে টিপিক্যাল টাওয়ারে মাল্টিপল ব্যবহার করা গেলে একদিকে যেমন টাওয়ার এর উদ্দেশ্য সফল হবে অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও করা সম্ভব হবে। 

রিয়াসাদ সম্রাট বলেন, আমি মনে করি এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সফল হয়েছি। আমাদের প্রস্তাবিত টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারে স্থাপিত ওয়াইন্ড টার্বাইন  বায়ুশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে পরিণত করবে, তাছাড়া এর সাথে সংযুক্ত সোলার প্যানেল সৌরশক্তি ব্যবহার করে তড়িৎ শক্তি উৎপাদন করবে। অপরদিকে ল্যাম্পপোলে পাইজো ইলেক্ট্রিক জেনারেটর বাড়তি তড়িৎ শক্তির যোগান দিবে। আমি মনে করি এটা শুধু আমাদের অর্জন নয় এটি পুরো চুয়েটের অর্জন।

উল্লেখ্য: ইডটকো এই টাওয়ার ডিজাইন প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করেছিলো অনেক আগেই। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো মূলত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিযোগী বাছাই করা। সেসময় চুয়েটে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিলো যেটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জিএম সাদিকুল ইসলাম। চুয়েট থেকে ২টি টিম প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ায় তাদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম