খুলছে ঢাবির হল, বাড়বে কি খাবারের মান? 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

খুলছে ঢাবির হল, বাড়বে কি খাবারের মান? 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৭ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ শিক্ষার্থীদের সুষম খাবার সরবরাহ করতে হবে। 

শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ শিক্ষার্থীদের সুষম খাবার সরবরাহ করতে হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ক্যান্টিনে খাবার মান নিয়ে প্রশ্ন অনেক পুরাতন। করোনার দীর্ঘ বন্ধের পর আবাসিক হল খুললে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। হলের খাবার পুষ্টিমান নিশ্চিত ও ক্যান্টিনের পরিবেশ উন্নত করতে কি আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কি-না তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। 

পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হল ক্যান্টিনের পরিবেশ উন্নত করে সুষম খাদ্য ও ফলমূল সরবরাহ করতে পারলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা পুষ্টি নিশ্চিত হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের নির্দেশনা রয়েছে তবে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলে জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় ও হল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা খাবার মান নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ শিক্ষার্থীদের সুষম খাবার সরবরাহ করতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলা হবে। এতে প্রথমে মাস্টার্স ও অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণ ও করোনা পরিস্থিতির উপর বিবেচনায় নিয়ে হল খোলা হবে। কিন্তু টিকা নিয়ে হলে উঠলেও ক্যান্টিনে সুষম খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভুগতে হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। 

করোনায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ক্যান্টিনের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতের প্রতি জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা। 
তারা বলছেন, করোনার সময়ে সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন সব ধরনের খাবার যোগ করা। মাছ, মাংস, শাক-সবজিসহ ফলমূলও যাতে সংযোজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ভিটামিন পাবে ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যাবে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম আকতারুজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের হলগুলোতে যারা ক্যান্টিন পরিচালনা করে এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তারা যদি বাজার থেকে তাজা ও পুষ্টিকর দ্রব্য কিনে এনে সরবরাহ করে তাহলে শিক্ষার্থীরা সঠিক পুষ্টিটা পাবে। করোনার বিষয়টি মাথায় রেখে হল প্রশাসন, ক্যান্টিন মালিক সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের খাবারের ম্যানুতে মাছ মাংসের সাথে শাক-সবজি ও দিনে একটি হলেও ফলমূল দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা কিছুটা হলেও পুষ্টি পাবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সুষম খাবার নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তবে খাবারের বিষয়টি আমাদের হল কর্তৃপক্ষের কাছে। আজ প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকের পর জানা যাবে বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলছে। তারিখ জানার পর আমরা হলের হাউজ টিউটর ও ক্যান্টিন মালিকদের সাথে বৈঠক করে সুষম খাবারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আলোচনা করবো। 

ক্যান্টিনবয়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনতো অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা হলে উঠবে। এদের জন্য ক্যান্টিন বালকও কম লাগবে। তাই আমরা ক্যান্টিন মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে যারা করোনার টিকা নিয়েছে তাদেরই এখন কেবল কাজে আনতে। পরবর্তী সময়ে টিকা নিশ্চিত করে অন্যদেরও কাজে আনা হবে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের সুষম খাবার নিশ্চিত করতে আমরা হল প্রশাসন ও ক্যান্টিন মালিকদের সাথে আলোচনা করে সুষম খাবারের বিষয়টি নিশ্চিত করবো৷ আর ক্যান্টিন বালকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও আমরা সমন্বয় করে নিশ্চিত করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম