ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে দেশীয় প্রযুক্তিতে মশা নিধনের যন্ত্র উদ্ভাবন

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে দেশীয় প্রযুক্তিতে মশা নিধনের যন্ত্র উদ্ভাবন

রাকিবুল হাসান, গণ বিশ্ববিদ্যালয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৯ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন করেন মশা নিধনের যন্ত্র।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন করেন মশা নিধনের যন্ত্র।

আশুলিয়ার খেজুরটেক এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন করেন মশা নিধনের যন্ত্র। যার নাম রেখেছেন বিডি ফগার মেশিন।

উদ্ভাবিত মেশিনে ব্যবহৃত কেমিক্যাল মানুষের শরীরে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না, বলে দাবি করছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) গবেষকেরা। ফগার মেশিনে ব্যবহৃত কেমিক্যালের প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন তারা৷ 

গবির স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি, ফার্মেসি এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের গবেষকরা এ গবেষণা করেন। গবির গবেষণা বলছে, মেশিন এবং এর ব্যবহৃত কেমিক্যাল মানুষের উপরে কোনো বিরুপ প্রভাব পড়বে না এবং এই মেশিনের মাধ্যমে মশা দমন করা সম্ভব। 

গবেষকেরা বলছেন, উদ্ভাবিত মেশিনে ব্যবহৃত কেমিক্যালের সর্বনিম্ন কার্য-পরিমাণ নির্ধারণ করে নিয়েছি। যা মশা কার্যকর ভাবে মারা যাবে এবং এর ব্যবহৃত কেমিক্যাল মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিনা—তা যাচাই করেছি। তাছাড়া আমরা তাকে কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছি। এটা ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। 

বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান ড. ফুয়াদ হোসেন জানান, আমরা সামনে এটা নিয়ে আরও গবেষণা করতে চাই। এটার মেটফর্ট অপটিমাইজেশন এবং মেশিনের আরো কার্যকরিতা আমাদের গবেষণা ও সহোযোগিতায় আরো আপডেট করতে পারবে। 

তিনি আরো বলেন, এই কেমিক্যাল তিন স্তরের মশার উপরে প্রয়োগের মাধ্যমে গুণগত মান নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন পরিমাণ নিয়ে প্রথমে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া মশা অর্থাৎ ২/৩ দিন বয়সের মশা, তারপর মশার লার্ভা থেকে জন্ম নেয়া সদ্য মশা ও লার্ভাগুলোর উপর প্রয়োগ করা হয়। এই তিন রকম বয়সের মশার উপরে কেমিক্যালটি খুব কার্যকরভাবে কাজ করে।
 
জানা যায়, শুরুতে মোশাররফ হোসেন অতিরিক্ত পরিমাণে কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। পরে গবেষণার মাধ্যমে এর কিছু সাইড ইফেক্ট যেমন চোখ, ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করলে যে ক্ষতি হবে এগুলো বের করে এই কেমিক্যালের সঠিক ও কার্যকরী পরিমাপ যেটা সর্বনিম্ন পরিমানের এনে ব্যবহার বিধি দেয়া হয়।  

তাছাড়া এই কেমিক্যাল এর ফলে মানুষের শারিরীক ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য কেমিক্যালের সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে নির্দিষ্ট কার্যকর মাত্রার পরিমাপ তৈরি করা হয়। স্প্রে করার সময় মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার ও আশেপাশের মানুষের সমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও দেন গবি গবেষকরা।

কেমিক্যালের সহনীয় মান নির্ণয়ে কাজ করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিলয় কুমার দে, সহকারী অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হোসেন এবং সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম। 

উদ্ভাবিত ফগার মেশিনের পর্যবেক্ষণ করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) ডা. লায়লা পারভীন বানু, রেজিস্ট্রার ড. এস. তাসাদ্দেক আহমেদ ও করোনাভাইরাস কিট আবিষ্কারক অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম