সাত কলেজের ফলাফলে চরম অসংগতি, অসন্তোষে শিক্ষার্থীরা! 

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাত কলেজের ফলাফলে চরম অসংগতি, অসন্তোষে শিক্ষার্থীরা! 

ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:০৬ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে তিন বিষয়ের ফলাফল আসা যেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে তিন বিষয়ের ফলাফল আসা যেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

পরীক্ষায় উপস্থিত থেকেও ফলাফলে অনুপস্থিত। পরীক্ষা দেয়ার পরও ফলাফল শিট ফাঁকা, সব বর্ষে পাস করার পরও ফলাফল ইনকম্পিলিট (সিজিপিএ না আসা) দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে তিন বিষয়ের ফলাফল আসা যেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। 

এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যপক অসন্তোষ দেখা গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই তাদের এমন বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে হাজিরা শিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। 

এরপর আবেদনপত্রে নিজ কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে জমা দিতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাত শিক্ষার্থীদের৷

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদা আঞ্জুম বলেন, আমার কোনো বর্ষে কোনো বিষয়ে ফেল নেই। কোনো বর্ষে কোনো মানন্নোয়ন পরীক্ষাও দেই নাই। সব বর্ষে পাস থাকা সত্বেও ফলাফল ইনকম্পিলিট (সিজিপিএ না আসা) দেখাচ্ছে। এখন আবার ফল ঠিক করার জন্য ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে যেতে হবে। কোনো বর্ষে ফেল না করেও এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের। এটা খুবই হতাশজনক।

সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, আমি তৃতীয় বর্ষে পেটে আটমাসের বাচ্চা নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। এরপর ফলাফলে এক বিষয়ে W  (উইথেল্ড) আসছে। একমাসের বেবি নিয়ে কবি নজরুল থেকে হাজিরা শিট সংগ্রহ করে আবেদনপত্রে আমার কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ ঢাবির প্রশাসনিক ভবনে জমা দিয়েছি। ওই বিষয়ে পরবর্তীতে ফেল আসে। এই বছর আবার মানন্নোয়ন পরীক্ষা দিয়েছি ওই বিষয়সহ দুই বিষয়ে। ফলাফল আসছে তিন বিষয়ে। এরমধ্যে এক বিষয়ে আবারও W  (উইথেল্ড) আসছে। এরকম হয়রানির কোনো মানেই হয় না। 

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর সরকারি সাত কলেজের চতুর্থ বর্ষের বাংলা বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে সিজিপিএ আসে নাই শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রাবেয়া খাতুন বলেন, এই বিষয় আমি শিক্ষার্থীদের থেকে শুনেছি। শিক্ষার্থীদের আমি আবেদনপত্র দিতে বলেছি। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র কলেজ অধ্যক্ষের সুপারিশসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর প্রেরণ করবো। 

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোহসিন কবীর বলেন, সফটওয়্যারের কোনো সমস্যার কারণে এমন হয়ে থাকতে পারে। শিক্ষার্থীরা আবেদনপত্র দিলে আমার সুপারিশসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর প্রেরণ করে দিব। 

তবে দায় এড়িয়ে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরী বলেন, এটা আমাকে বলে লাভ নেই। এটার শাখা আছে। ওই শাখাতে যোগাযোগ করেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম