২০ টাকায় ব্যবসা শুরু করে এখন লাখপতি সুপ্তি 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

২০ টাকায় ব্যবসা শুরু করে এখন লাখপতি সুপ্তি 

আসরিফা সুলতানা রিয়া  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৫ ২৮ জুলাই ২০২১  

নয় মাস আগে মা-মেয়ের প্রচেষ্টায় শুরু হয় তাদের মাস্ক ব্যবসার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘খুশ-Khush’র পথচলা।

নয় মাস আগে মা-মেয়ের প্রচেষ্টায় শুরু হয় তাদের মাস্ক ব্যবসার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘খুশ-Khush’র পথচলা।

পড়াশোনার সময় ব্যবসা করাকে অনেক পরিবারই আড় চোখে দেখেন। ঠিকমতো পড়াশোনা করো, ভালো চাকরি করো বলে যেখানে সন্তানদের ব্যবসা থেকে নিরুৎসাহিত করে সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শেহেরীন আমিন সুপ্তি পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসা করে আজ হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী। 

করোনার এই সময়ে অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করে শুরু করে দেন মাস্ক তৈরির ব্যবসা। তখন ঘরে বসে বিষণ্ণ হওয়ার থেকে কিছু করাই যায় এরকম ভাবনা থেকেই মাত্র ২০ টাকা বিনিয়োগ করেই আজ লাখপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। তার ব্যবসায় এই সাফল্যের গল্প শুনিয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশকে। 

শুরুতে ঘরে থাকা নিজেদের জন্য মাস্ক তৈরির কিছু জিনিস আর বাজার থেকে কিনে আনা ২০ টাকার ইলাস্টিক। ব্যস! তাই দিয়েই মায়ের বানানো মাস্ক দিয়ে যাত্রা শুরু হয় ব্যবসা। প্রায় নয় মাস আগে মা-মেয়ের প্রচেষ্টায় শুরু হয় তাদের মাস্ক ব্যবসার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘খুশ-Khush’র পথচলা। আর এর বদৌলতে অল্প কদিনের ব্যবধানে সুপ্তি আজ পরিচিত মুখ। অনাগত বহু উদ্যোক্তার অনুপ্ররণা। তাদের মাস্কের গুণমান নিয়েও সচেতন তারা। পুরোদস্তুর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী সিনথেটিক মিক্সড, পলিপ্রোপাইলিন আর সুতি কাপড়ের তিন স্তর দিয়ে তৈরি হয় খুশের মাস্ক। যা স্বাস্থ্যসম্মত, আরামদায়ক তো বটেই, সেই সঙ্গে দেখতেও নজরকাড়া। 

ক্রেতাদের আগ্রহ আর পছন্দ অনুযায়ী খুশে রয়েছে রেগুলার, হ্যান্ডপেইন্টেড, হ্যান্ড এমব্রয়ডারিড আর এক্সক্লুসিভ মাস্কের বাহার। মান অনুযায়ী দামও বেশ হাতের নাগালে। খুশের রেগুলার মাস্ক ৯০ টাকা, হ্যান্ড পেইন্টেড ১২০-১৪০ টাকা, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি ১৮০-২৫০ টাকা এবং কাস্টমাইজড মাস্কে থাকে দামের ভিন্নতা।

সুন্দর আর নান্দনিক মাস্ক তৈরি করতে সুপ্তির মা একদিকে করেন মাস্কের প্রাথমিক সেলাই আর হরেক ডিজাইনের কাজ, আরেকদিকে বাবা তৈরি করেন পার্সেল রেডি ও কুরিয়ার করার আর বোন সাহায্য করে আঁকায় আর সুপ্তি সামলায় গোটা বিজ্ঞাপনের আর ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ভার। পুরো এক পরিবার এক সঙ্গে কাজ করে। এভাবেই সবার পরিচর্যায় দিন দিন বেড়ে উঠছে খুশ। ব্যবসায় লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি উপহার হিসেবে পাচ্ছেন শত ক্রেতার হাসি আর অভিনন্দনের ফোয়ারা। এগুলোই খুশের মূল কারিগর সুপ্তি আর তার মাকে প্রতিনিয়ত করছে উৎসাহিত, জানাচ্ছে অভিবাদন বার্তা।

এরইমধ্যে দেশের বাইরে আমেরিকা, ইতালির ক্রেতাদের নিজের পণ্যের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে সুপ্তির। সফলতার এসব গল্প বলে ব্যবসা নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে সুপ্তি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক শেষ বর্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি পাশাপাশি আমার ছোট্ট প্রতিষ্ঠান খুশের ব্যস্ততাও বাড়ছে। সাংবাদিকতায় ভালো ক্যারিয়ার গঠনের পথে ছোট্ট খুশকেও সঙ্গে নিতে এগিয়ে যাবো। সে লক্ষ্যে নিজস্ব এক ফ্যাশন হাউজ গড়তে চাই। স্বপ্ন দেখি, উদ্যোক্তার পথ অতিক্রম করে একদিন সফল উদ্যোক্তার মাইলফলক স্পর্শ করবো। এই প্রত্যাশায়ই কাজ করে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম