আমেরিকান কনক্রিট ইনস্টিটিউটের স্টুডেন্ট প্রজেক্টস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েট

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

আমেরিকান কনক্রিট ইনস্টিটিউটের স্টুডেন্ট প্রজেক্টস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েট

সাঈদ চৌধুরী, চুয়েট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৭ ২৭ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৮:১০ ২৭ জুলাই ২০২১

চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন মাহফুজুল ইসলাম ও ইমতিয়াজ ইবনে গিয়াস। এজাজ আহমেদ ও সৈয়দ মারুফ-উল হাসানের দল প্রথম রানারআপ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া ও তাবাসসিমা ফারিয়ার দল দ্বিতীয় রানারআপ পুরস্কার অর্জন করেছে।

চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন মাহফুজুল ইসলাম ও ইমতিয়াজ ইবনে গিয়াস। এজাজ আহমেদ ও সৈয়দ মারুফ-উল হাসানের দল প্রথম রানারআপ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া ও তাবাসসিমা ফারিয়ার দল দ্বিতীয় রানারআপ পুরস্কার অর্জন করেছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ১৫ ব্যাচের তিন দল এসিআই’র কনক্রিট প্রজেক্টস প্রতিযোগিতায় সব পুরস্কার পেয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন মাহফুজুল ইসলাম ও ইমতিয়াজ ইবনে গিয়াস। প্রথম রানারআপ হয়েছে এজাজ আহমেদ ও সৈয়দ মারুফ-উল হাসানের দল, দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া ও তাবাসসিমা ফারিয়ার দল। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠন আমেরিকান কনক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) সদর দফতরে ২৭ জুলাই মধ্যরাতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। 

উল্লেখ্য, গত ২০২১ সালের মার্চে এসিআই বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়াল এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয়। চুয়েট থেকে প্রাপ্ত প্রজেক্টগুলো থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে মে মাসে ৪টি প্রজেক্ট অনলাইনে এসিআই সদর দফতরে জমা করা হয়। 

প্রসঙ্গত, বিশ্বের প্রায় ২৫০টি দেশে এসিআই’র স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চ্যাম্পিয়ন দল পুরস্কার হিসেবে ৭৫০ মার্কিন ডলার এবং একটি আন্তর্জাতিক সনদপত্র পাবে। অন্যদিকে প্রথম রানারআপ দল ৫০০ মার্কিন ডলার এবং দ্বিতীয় রানারআপ দল ২৫০ মার্কিন ডলারের পাশাপাশি একটি করে সনদপত্র পাবে। 

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের উপস্থাপিত প্রজেক্ট হচ্ছে- ‘𝑨 𝑪𝒓𝒊𝒕𝒊𝒄𝒂𝒍 𝑹𝒆𝒗𝒊𝒆𝒘 𝒐𝒏 𝒕𝒉𝒆 𝑷𝒆𝒓𝒇𝒐𝒓𝒎𝒂𝒏𝒄𝒆 𝒐𝒇 𝑴𝒊𝒄𝒓𝒐𝒃𝒊𝒂𝒍 𝑪𝒐𝒏𝒄𝒓𝒆𝒕𝒆 𝑫𝒆𝒗𝒆𝒍𝒐𝒑𝒆𝒅 𝑼𝒔𝒊𝒏𝒈 𝑬. 𝑪𝒐𝒍𝒊 𝑩𝒂𝒄𝒕𝒆𝒓𝒊𝒂’ ( ই-কোলি ব্যাকটেরিয়া দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট তৈরি)।

গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম। 

প্রথম রানারআপ দলের উপস্থাপিত প্রজেক্ট ছিল- ‘𝑬𝒇𝒇𝒆𝒄𝒕 𝒐𝒇 𝑪𝒐𝒎𝒑𝒂𝒄𝒕𝒊𝒐𝒏 𝒐𝒏 𝒕𝒉𝒆 𝑷𝒓𝒐𝒑𝒆𝒓𝒕𝒊𝒆𝒔 𝒐𝒇 𝑬𝒄𝒐-𝑭𝒓𝒊𝒆𝒏𝒅𝒍𝒚 𝑩𝒖𝒊𝒍𝒅𝒊𝒏𝒈 𝑩𝒍𝒐𝒄𝒌 𝒖𝒔𝒊𝒏𝒈 𝑰𝒏𝒅𝒖𝒔𝒕𝒓𝒊𝒂𝒍 𝑩𝒚-𝑷𝒓𝒐𝒅𝒖𝒄𝒕𝒔 (চাপ প্রয়োগ করে শিল্পবর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব বিল্ডিং ব্লক তৈরি)। 

দ্বিতীয় রানারআপ দলের প্রজেক্ট ছিল- ‘𝑻𝒆𝒓𝒏𝒂𝒓𝒚 𝑪𝒐𝒎𝒃𝒊𝒏𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏 𝒐𝒇 𝑰𝒏𝒅𝒖𝒔𝒕𝒓𝒊𝒂𝒍 𝑾𝒂𝒔𝒕𝒆𝒔 𝒇𝒐𝒓 𝑺𝒖𝒔𝒕𝒂𝒊𝒏𝒂𝒃𝒍𝒆 𝑮𝒆𝒐𝒑𝒐𝒍𝒚𝒎𝒆𝒓 𝑴𝒐𝒓𝒕𝒂𝒓𝒔’ (তিন ধরনের শিল্পবর্জ্য একত্রে করে টেকসই বিকল্প সিমেন্ট)

এই দুটো গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন এসিআই, চুয়েট স্টুডেন্টস চ্যাপ্টারের অনুষদ উপদেষ্টা ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জিএম সাদিকুল ইসলাম।

চুয়েট শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবিউল আলম ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল। 

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া গবেষণা সম্পর্কে মাহফুজুল আলম বলেন, মাইক্রোবিয়াল কনক্রিটের অগ্রগতি বাংলাদেশের নির্মাণ ক্ষেত্রের গবেষণার নতুন একটি বিষয়। গবেষণাকালে অধিকতর শক্তিশালী ও টেকসই কনক্রিট তৈরি করার লক্ষ্যে ই-কোলি ব্যাকটেরিয়াল স্ট্রেন ব্যবহার করা হয়। যা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ফাটল নিরাময়ে সহায়ক। এই গবেষণায় তৈরি করা কনক্রিট পরিবেশ বান্ধব। 

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান পাওয়া গবেষণা সম্পর্কে এজাজ আহমেদ বলেন, ইট উৎপাদনে ইটের ভাটাগুলো একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণে ক্ষতিকারক গ্যাস বের করছে অন্যদিকে ইট তৈরির কাঁচামাল যোগান দিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাষাবাদ্যোগ্য উর্বর জমি নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সিংহভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো কয়লাকেন্দ্রিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাই গবেষক দলের মূল উদ্দেশ্য ছিল কয়লাকেন্দ্রিক বিদুৎ কেন্দ্রর ফ্লাই এ্যাশ এবং অন্যান্য বড় বড় শিল্পকারখানাগুলো হতে উৎপন্ন আবর্জনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে পরিবেশনান্ধব ইট তৈরি করা সম্ভব। 

অন্যদিকে তৃতীয় স্থান পাওয়া গবেষণা সম্পর্কে জান্নাতুল ফেরদৌস সোনিয়া বলেন, নির্মাণশিল্পে সিমেন্টের পরিবর্তে শিল্পবর্জ্যের ব্যবহার নিশ্চিতকরণই ছিল আমাদের গবেষণার প্রারম্ভিক এবং মূল লক্ষ্য। এসব বর্জ্য নির্মাণকাজে যথাযথ ব্যবহার করে উপযুক্ত ফলাফল পাওয়া বরাবরই আমাদের জন্য একটি সাফল্য। সেইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব নির্মাণের দিকে একটি উত্তম ধাপ বলে আমরা মনে করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম