ভর্তিচ্ছুদের টাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ল্যাপটপ বিলাস!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

ভর্তিচ্ছুদের টাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ল্যাপটপ বিলাস!

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ২৭ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৬ ২৭ জুলাই ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ আগ্রহের জায়গা। এর প্রমাণ মেলে ২০২০-২১ স্নাতক প্রথমবর্ষে ভর্তির ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৩ আবেদন দেখেই। এসব আবেদনের পেছনে প্রফেসিং ফি বাদে প্রতি শিক্ষার্থীকে গুণতে হয়েছে ৫৫০ টাকা। সে হিসেবে এই খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) বিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের আয় থেকে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ খরচ করতে পারে আর বাকি ৪০ শতাংশ ফেরত পাঠাতে হয় ইউজিসির কাছে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খরচ সংকোচন নয় বরং উঠে পড়ে লেগেছেন সেই টাকা কত বেশি খরচ করা যায় সেই কর্মযজ্ঞে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সভায় ভর্তি পরীক্ষার খাতের অর্থ দিয়ে চবি ভিসি ড. শিরীণ আখতার, প্রো-ভিসি অধ্যাপক বেনু কুমার দের দাফতরিক কাজে ব্যাবহারের জন্য একটি করে ল্যাপটপ ক্রয়ের এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। এতে দুটি ল্যাপটপের জন্য ‘এপেল মেকবুক প্রো ১৩.৩’ ‘ডিসপ্লে ২০২০’ ও ‘এপেল মেকবুক প্রো ১৬’ ‘ডিসপ্লে ২০১৯’ মডেল তুলে ধরা হয়। যেখান থেকে ‘এপেল মেকবুক প্রো ১৬’  ‘ডিসপ্লে ২০১৯’ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যেটির মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। অপরদিকে অন্য মডেলটির দাম ছিলো ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। 

এইদিকে প্রো-ভিসির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শিরীণ আখতার এজেন্ডা বহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম মনিরুল হাসানের জন্যও একই মডেলের একটি ল্যাপটপ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলে যায় সূত্রটি। সে হিসেবে সর্বমোট তিনটি ল্যাপটপের মূল্য মিলিয়ে টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা৷ আর এই অর্থ এসেছে প্রায় ১ হাজার ৩৩৪টি ভর্তির আবেদন থেকে; বলা যেতে পারে ১ হাজার ৩৩৪ পরিবার থেকে। 

এদিকে ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্ট্রারের দাফতরিক কাজের জন্য ডেস্কটপ কম্পিউটার থাকা সত্বেও তাদের চড়া দামে এসব ল্যাপটপ ক্রয়কে ‘বিলাসিতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা। প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদস্থদের এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, বিশ্ববদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসির প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার অর্থ খরচ করে ল্যাপটপ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত কিভাবে কর্তৃপক্ষ নিতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। 

এইদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একাধিক ডিনরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় অফিস খরচের জন্য বিভিন্ন খাত রয়েছে; সেখান থেকে এই সব কাজের বরাদ্দ না দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের টাকা থেকে ল্যাপটপ ক্রয় অযৌক্তিক। 

বিশ্বিবদ্যালয়ের সাবেক এক ভিসি বলেন, ভিসি, প্রো-ভিসির দরকার হলে তারা সংশ্লিষ্ট খাতের অর্থ দিয়ে ল্যাপটপ কিনতে পারেন। তবে ভর্তি পরীক্ষার অর্থ দিয়ে ল্যাপটপ কেনা এটা কতটুকু যৌক্তিক তা সবাই বুঝে। এরকম কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শুনলে সত্যি অবাক হই। ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্ট্রারের দাফতরিক কাজের জন্য ডেস্কটপ, কম্পিউটার রয়েছে।

এবিষয়ে চবির একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এসএম আকবর হোসাইন বলেন, কোর কমিটির সভায় ল্যাপটপ ক্রয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি ড. শিরীণ আখতার বলেন, এটা রেজিস্ট্রার সাহেবকে জিজ্ঞেস করো!

এইদিকে বিশ্বিবদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভারপ্রাপ্ত এসএম মনিরুল হাসান বলেন, ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক উন্নত যোগাযোগের কাজে এসব ল্যাপটপ কেনা হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম