বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে সেরাদের তালিকায় যেতে ঢাবির উদ্যোগ 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৮,   ১৯ সফর ১৪৪৩

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে সেরাদের তালিকায় যেতে ঢাবির উদ্যোগ 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩১ ২৬ জুলাই ২০২১  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল (ফাইল ছবি)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল (ফাইল ছবি)

প্রতি বছরই বিভিন্ন সংস্থা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং তৈরি করে। কুয়াককুয়ারলি সিমন্ডস বা কিউএস, টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং সাংহাই র‌্যাংকিং কনসালট্যান্সি (একাডেমিক র‌্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ) ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী সংস্থাগুলোর র‌্যাংকিংয়ে অবস্থানে নিম্নগামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

সংস্থাগুলোর র‌্যাংকিং তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সূচক হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি রেশিও) ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও)। যেগুলো আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের উন্নয়ন ঘটাতে সহায়তা করে। তাই আগামী আগস্ট ৮ তারিখের মধ্যে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়/গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভাগ/ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইংরেজি ভাষায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নিজেদের নাম (Name with Title (if any)), কর্মস্থলে তাদের স্তর বা পদবী (Designation), কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউটে কর্মরত রয়েছেন সেটির নাম ও ঠিকানা (Name and Address of University/Institution working) এবং ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ই-মেইল বা ফোন নাম্বার (Email & phone Number of the person) সংযুক্ত করে এক্সেল ফরম্যাটে [email protected] ইমেইল ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে। 

চলতি বছরের ৯ জুন কিউএস বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে— গত বছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের কোনো উন্নতি হয়নি। বৈশ্বিক এ র‌্যাংকিংয়ে ৮০০-এর মধ্যে নেই দেশসেরা এ দুই বিদ্যাপিঠ। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১-১০০০-এর স্তরে। অথচ ২০১২ সালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৬০১-এর স্তরে ছিল, যেখান থেকে ২০১৪ সালে এর অবনমন ঘটে ৭০১-এর স্তরে, ২০১৯-এ আরও অবনমন ঘটে। বর্তমানে বিশ্বসেরা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও নাম নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। 

শুধু যে কিউএসের র‌্যাংকিংকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে তা নয়। লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী 'টাইমস হায়ার এডুকেশনে' প্রকাশিত প্রতি বছর বিশ্বের বিশ্ব্যবিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিংয়ে দেশের প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজারেরও পরে। 

বাজেটের স্বল্পতা, গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব, শিক্ষক নিয়োগের স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অভাব এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন ও উচ্চতর জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সেসবের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে না পারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বসেরাদের তালিকায় পিছিয়ে রাখার মূল কারণ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের অনেক সংকট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও গবেষণা কাজে অগ্রগতি এখন সবচেয়ে জরুরি। তাই একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বর্তমানে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় অনেকটা পিছিয়ে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা বিষয়ক র‌্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় অনেক নিচে কিংবা অনেকগুলোতে তালিকাভুক্তই হয়নি। আবার যেগুলোতে এর আগের বছরে আমরা স্থান কর নিতে পারিনি সেগুলোতে এবার আমরা তালিকাভুক্ত হয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব সূচকে র‌্যাংকিং করে সে সূচকে আমাদের ঘাটতি রয়েছে, যেমন– শিক্ষার পরিবেশ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়/গবেষণা প্রতিষ্ঠানে আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও তাদের গবেষণা সামগ্রী। এসব নানাবিধ সূচকে একসাথে এগিয়ে না আসতে পারলে র‌্যাংকিংয়ে ভালো করা কষ্টকর। এই সূচকগুলোতে উন্নতি করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যাতে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে অবস্থানের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম