অনলাইনে পণ্য বিক্রির লাভের টাকায় বাবা-মাকে ফ্রিজ ও বাড়ি উপহার

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

অনলাইনে পণ্য বিক্রির লাভের টাকায় বাবা-মাকে ফ্রিজ ও বাড়ি উপহার

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৬ ২৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৪:৫২ ২৩ জুলাই ২০২১

বাবার সঙ্গে পুষ্টিবিদ মুরাদ পারভেজ

বাবার সঙ্গে পুষ্টিবিদ মুরাদ পারভেজ

পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেছেন। সেই পণ্যের লাভের টাকায় আদরের বাবা-মাকে উপহার দিয়েছেন ফ্রিজ ও বাড়ি। তার নাম মুরাদ পারভেজ রাজশাহীর পবা থানার পাইকপাড়া গ্রামের মুন্তাজ আলী এবং রেণুফা বেগমের তৃতীয় সন্তান তিনি। পড়ছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) খাদ্যপ্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সে। 

জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে স্নাতক শেষ করে একদিনও বসে থাকেননি মুরাদ। পুষ্টিবিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় স্বপ্ন ছিলো নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করার। সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে গেল বছরের জুনে পুরোদমে কাজ শুরু করেন রাজশাহীর আম নিয়ে। প্রথম বছরেই অনলাইনে ৬ হাজার কেজি আম বিক্রি করেন। অন্য আম ব্যবসায়ীদের মতো ক্রেতাদের থেকে অগ্রিম টাকা নেননি মুরাদ। আম হাতে পেয়েই ক্রেতারা তাকে টাকা দিতো। কোনো কারণে আম খারাপ হলে আবার নতুন করে আম পাঠাতেন তিনি। প্রথম বছরের আম বিক্রি থেকে লাভের টাকা খরচ না করে মুরাদ দুটি গরু কেনেন। পাশাপাশি শুরু করেন মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবসা। অনলাইনে নয়মাসে সারাদেশে প্রায় ৬৩০টি পানির জার বিক্রি করেন তিনি। ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা অর্জন করে এরপর আবার চলতি বছরে এসে মাত্র ৩৩ দিনে ২৩ টন আম বিক্রি করেছেন। শুধু করোনাকালীন সময়ে অনলাইনে মোট ৩৫ লাখ টাকার আম ও মাটির পণ্য বিক্রি করেছেন মুরাদ। আর এসব বিক্রির লাভের টাকা দিয়েই বাবা-মাকে ফ্রিজ ও বাড়ি উপহার দিয়েছেন তিনি।

মুরাদ পারভেজ বলেন, গত বছর আম বিক্রি করে দুটি গরু কিনেছিলাম। গরু দুটি এবার অনলাইন বিজনেস প্ল্যাটফর্ম উইতে বিক্রি করে লাভের কিছু অংশ দিয়ে বাবা-মাকে ফ্রিজ উপহার দিয়েছি। আর এ বছরের আম বিক্রি লাভের টাকায় মাকে বাড়ি উপহার দিচ্ছি। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুঁটাতে পেরেছি তাই এবারের ঈদ জীবনের সেরা ঈদ। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার গাইড কেনার জন্য কাসার কিছু আসবাব ছিলো সেগুলো বিক্রি করেছিল মা। গরুর দুধ বিক্রি করেও মা পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। আমার বাবা অত্যন্ত মেধাবী হওয়া স্বত্বেও অভাবের কারণে মেট্রিক পরীক্ষা দিতে পারেননি। দারিদ্র্যতার মধ্যেও বাবা চেয়েছেন আমি বড় হই। এখন তাদের জন্য কিছু করতে পারাটাই আমার জীবনের বড় স্বার্থকতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম