অনলাইন পরীক্ষায় দক্ষতা নেই ঢাবির ২১ শতাংশ শিক্ষার্থীর 

ঢাকা, রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১০ ১৪২৮,   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

অনলাইন পরীক্ষায় দক্ষতা নেই ঢাবির ২১ শতাংশ শিক্ষার্থীর 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৪ ১৯ জুলাই ২০২১  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল (ফাইল ছবি)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল (ফাইল ছবি)

করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বর্ষ/ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)। কিন্তু অনলাইন পরীক্ষায় অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন ঢাবির ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য কোনো দক্ষতাই নেই ২১ শতাংশ শিক্ষার্থীর। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ’র সোস্যাল সায়েন্স টিম’র এক জরিপ প্রতিবেদনের ফলাফলে এসব তথ্য উঠে আসে। 

জরিপে অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল দক্ষতা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে ১২.৭% শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত দক্ষ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ২৯.৮% মোটামুটি দক্ষ, ২৪% কিছুটা দক্ষ, ১২.৪% দক্ষতার ব্যাপারে সন্দিহান এবং ২১% শিক্ষার্থী কোনো দক্ষতা নেই বলে জানান। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল করিম এবং কমিউনেকশন ডিসঅর্ডারস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন তাওহিদা জাহান এর সার্বিক দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধায়নে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ-এর সোস্যাল সায়েন্স টিম’-এর মো. তানবীরুল ইসলাম (টিম ম্যানেজার), সুমাইয়া ইমতিয়াজ (কো অর্ডিনেটর), মো. আতিকুজ্জামান, জাওয়াদ সামস, রাগীব আনজুম, মো. ওমর ফারুক ও সুমাইয়া আহমেদ। গবেষণা প্রবন্ধটি বিশ্লেষণ ও পুনর্বিন্যাসে সহযোগিতা করেছেন নাসরিন জেবিন, সাইফুল্লাহ সাদেক, শাহরিন ফারাহ খান এবং ইসতিয়াক উদ্দিন। 

চলতি বছরের ৩০ মে থেকে অনলাইনে শুরু হয় এই জরিপ। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল অনুষদ ও ইন্সটিটিউটের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের সকল বর্ষের ৩ হাজার ৭শ' ৩০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৫৫.৫% ছাত্র এবং ৪৩.৪% ছাত্রী এবং ১.১% শিক্ষার্থী লিঙ্গ প্রকাশে অনিচ্ছুক। করোনাকালীন এই সময়ে শিক্ষার্থীদের ৪৪.৫% গ্রাম, ১৫.৭% ছোট শহর, ১৯.৩% শহর ও ২০.৩% মহানগর এলাকায় অবস্থান করছেন। 

জরিপে অনলাইন পরীক্ষার পক্ষে ও বিপক্ষে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেছেন। অনলাইন পরীক্ষার পক্ষের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এসাইনমেন্ট পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া, প্রশ্নের ধরন অপেক্ষাকৃত সহজ করা এবং সিলেবাস ছোট করার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে সকলেই পরীক্ষায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সেশনজট নিরসনের উপরে জোর দিয়েছেন। অপরদিকে অনলাইন পরীক্ষার বিপক্ষে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত ডিভাইসসহ নানা সমস্যার কথা জানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ক্যাম্পাস খুলে সশরীরে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক। 

প্রতিবেদনের ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইনে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ৫২.৭% শিক্ষার্থী ইচ্ছুক, ৪৫% শিক্ষার্থী ইচ্ছুক নন এবং বাকিরা এখনো নিশ্চিত নন। ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮৭.৪% অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে আগ্রহী। এছাড়াও অনেকেই ওপেন বুক (২১.১%), এমসিকিউ (১৯.৭%), সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১৯.৪%) বা বড় প্রশ্নোত্তর (৫.৪%) পদ্ধতিতে এবং শুধুমাত্র ৪.২% শিক্ষার্থী লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম