আবাসন নিশ্চিত করেই ঢাবিতে ফার্সি বিভাগের পরীক্ষায় শতভাগ উপস্থিতি

ঢাকা, শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৮,   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আবাসন নিশ্চিত করেই ঢাবিতে ফার্সি বিভাগের পরীক্ষায় শতভাগ উপস্থিতি

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৩৮ ২২ জুন ২০২১  

এক শিক্ষার্থী থেকে অন্য শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ ফুটের দূরত্ব রাখা হয়

এক শিক্ষার্থী থেকে অন্য শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ ফুটের দূরত্ব রাখা হয়

দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসরুমে পাঠদান বন্ধ থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে যায়নি এতদিন। করোনায় ১৫ মাস বন্ধ থাকার পর এবার সশরীরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগ। শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করে সশরীরে পরীক্ষা নিচ্ছেন তারা। 

গত রোববার (২০ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বিভাগটি তাদের চতুর্থ বর্ষের ৭ম সেমিস্টারের চূড়ান্ত প্রথম পরীক্ষা নেয়া শুরু করে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেড় ঘন্টা চলে পরীক্ষা। পরীক্ষায় ওই সেমিস্টারের সকল পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেয়া হচ্ছে পরীক্ষা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ৫ম তলায় এক্সাম হল-২ এ পরীক্ষা দুটি অনুষ্ঠিত হয়। এই হলটিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে একসাথে পরীক্ষায় বসাতে সক্ষম। ২৫০ জনের এই রুমে সামাজিক দূরত্ব মেনে ৮১ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হয়। এতে এক শিক্ষার্থী থেকে অন্য শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ ফুটের দূরত্ব রাখা হয়। 

করোনাকালে আবাসিক হল না খোলার নির্দেশনা দেয়ায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধান ও যাকে যেভাবে সহযোগিতা করা দরকার সেভাবে ব্যবস্থাপনা করে এই পরীক্ষার আয়োজন করেছে বলে জানান ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন। 

পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার বিষয়ে আমাদের বিভাগ অনেক সাহায্য করেছে। আমরা অনার্সের শেষ সময়ে এসে পরীক্ষার জন্য আটকে ছিলাম দীর্ঘদিন। তাই চাচ্ছিলাম আমাদের পরীক্ষাটা দ্রুত হয়ে যাক। হল বন্ধ রেখে যেহেতু পরীক্ষা হচ্ছে তাই যাদের আর্থিক ও আবাসন সমস্যা ছিল তাদেরকে বিভাগ সহযোগিতা করেছে। পরীক্ষার আগে চেয়ারম্যান স্যার আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেছে যে কার কি সমস্যা আছে আমাকে বলতে পারো। তখন আবাসন সমস্যার কথা জানালে স্যার বলেছিলেন ব্যবস্থা করা হবে। যেহেতু মেয়েদের সমস্যাটা বেশি তাই শিক্ষকরা মেয়েদেরকে প্রাধান্য দিয়ে সেগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করেছে। কয়েকজন মেয়ে শিক্ষকদের বাসায়ও থেকেছ।

পরীক্ষার বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, এই সেমিস্টারে আমাদের ৮১ জন শিক্ষার্থীর সবাই আজকে পরীক্ষায় উপস্থিত হয়েছে। নরমাল সময়ে পরীক্ষা নিলেও তো দু-চারজন অনুপস্থিত থাকে কিন্তু এই সময়েও শিক্ষার্থীরা সবাই অংশগ্রহণ করেছে এটা অনেক বড় পাওয়া। ১০-১৫ জনের ঝামেলা ছিল, আমরা তাদের সেভাবে সহযোগিতা করেছি। এদের মধ্যে কাউকে মেসে উঠিয়ে দিয়েছি, অনেককে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছি। আর মেয়েদের মধ্যে যাদের আবাসনের সমস্যা ছিল, তাদেরকে আমাদের আত্মীয়-স্বজনের বাসায় এবং আমাদের দুইজন শিক্ষকের বাসায়ও রেখেছি। 

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থী সবাই সুস্থ রয়েছে। আমরা সবসময় তাদের সাথে যোগাযোগ করছি। পরীক্ষা হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্কের বক্স রাখা থাকে। সবাই স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে সচেতন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রত্যেক বিভাগ যদি আন্তরিক হয় তাহলে সশরীরে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। 

এই সেমিস্টারের বাকি পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২৪ জুন ও ২৬ জুন। পরে ২৭ জুন ভাইভার মাধ্যমে শেষ হবে এই সেমিস্টারের পরীক্ষা। 

পরীক্ষার হল পরিদর্শনে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রব্বানী। ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি বলেন, বিভাগটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে, হল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে জিজ্ঞেস করেছি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে, তাদের পরীক্ষা দেয়ার আগ্রহ দেখার মতো। যেসব শিক্ষার্থীদের সমস্যা ছিল বিভাগ সেসব শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছে। শতভাগ উপস্থিতি ছিল। কঠিন সময় থাকলেও শিক্ষার্থী ও বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় শতভাগ উপস্থিতিতে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সার্বিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে বিভাগেরই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করবে তাদেরও পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম