বাবার জন্য ভালোবাসা

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২২ ১৪২৮,   ২৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

বাবার জন্য ভালোবাসা

চবি প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৬ ২০ জুন ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাবা মানে বটবৃক্ষের ছায়া। বাবা মানে নির্ভরতা। যার স্নেহ অবারিত ধারায় শুধু ঝরতেই থাকে। সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় বাবাকে। সব কষ্ট একা বুকে বয়ে বেড়ানো কঠিন সাহস কেবল বাবাদেরই হয়। কবির ভাষায়, ‘ঝিনুক নীরবে সহো/ ঝিনুক নীরবে সহো,/ ঝিনুক নীরবে সহে যাও/ ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!’ কবি আবুল হাসানের সেই ঝিনুকটিই যেন বাবা। 

নিঃসন্দেহে বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহারগুলোর একটি। কোন জাতি, ভাষা, ধর্ম ও বর্ণ নয় বাবাই সবার পথপ্রদর্শক। সন্তানের কাছে বাবা বন্ধুর মতো। সবকিছু বদলালেও বদলায় না রক্তের টান। 

বাবাকে নিয়ে নানা ধরণের গল্প থাকে আমাদের। তেমনই একটা গল্প বলছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহরাব নাদিম, মানুষের কত রঙ্গিন স্মৃতি থাকে, শৈশব থাকে নানারকম বৈচিত্র্যতায় ভরপুর। ছোটবেলা থেকেই আমার চিকেন বিরিয়ানি খুব প্রিয়। প্রাইমারিতে ক্লাস ফাইভে স্কুলে পড়ার সময় ভাগ্যগুণে যদি হঠাৎ কদাচিত কখনো বাবা স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন, তখন আবদার করে বসতাম। বাবা হাসিমুখে ছেলের শখ পূরণ করতেন। পৃথিবীতে আমার বাবাই আমার সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। আবেগে ভরপুর আর বাবার মায়াভরা ভালোবাসা পেয়ে এসেছি সদা। কিন্তু নিজে তখন খেতেন না, পাশে বসে আমার খাওয়া দেখতেন, বাবারা এমনই হয়! তখনকার দিনে হাফ ডিমসহ চিকেন বিরিয়ানির দাম ছিল ৩৫ টাকা! সেই মজাদার স্বাদ এখন ১২০ টাকার ফুল ডিমের বিরিয়ানিতেও পাই না।

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী মেহদি হাসান বলেন, বাবা শব্দটা শুনতে খুব ছোট হলেও এর মূল্য অনেক। আমাদের ভবিষ্যত গড়ার পিছনে যার সব থেকে বড় অবদান সে হলো বাবা। ত্যাগের সংজ্ঞা শুধু মাত্র একজন বাবা বলতে পারবে। যাদের এক জামাতে এক বছর চলে যাই কিন্তু কখনো পুরাতন হয়না। আর জুতা তাতো সম্ভবত এক যুগ চালানোর চেষ্টা করে। পটেকে টাকা আছে জেনেও যে মানুষটা নিজের তৃপ্তির জন্য চায়ের দোকান থেকে এক কাপ চা খাইনা সে মানুষটি হলো বাবা। বাবা আমার কিছু টাকা লাগবে কাল বই কিনতে হবে সন্তানের এ কথা শুনার পর যে মানুষটি পটেকে টাকা আছে কিনা না জেনে বলে খোকা দিচ্ছি টাকা তুমি শুধু মন দিয়ে পড়। একটা মানুষ সবসময় আমাদের কিভাবে বেঁচে থাকতে হবে তা শিক্ষা দেন সে মানুষটি হলো বাবা। আজ মনে পড়ছে সেই স্কুল জীবনের প্রথম দিনটির কথা যখন বাবার হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছিলাম বাব বলতেছিল খোকা তোমায় অনেক বড় হতে হবে।

প্রতিবছর জুনের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী বাবা দিবস উদ্যাপিত হয়। ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে প্রথম ৫ জুলাই দিবসটি পালন করা হয়। এরপর ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুনের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসাবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দিনটির উদ্যাপন আরও আড়ম্বরভাবে হয়ে থাকে। দিনটিতে বিশ্বের সব বাবার প্রতি ভালোবাসা জানান সন্তানরা। ভালোবেসে উপহারও দেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের ওয়ালগুলো ভরে যায় প্রিয় বাবার ছবিতে। যাদের বাবা বেঁচে আছেন তারা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ছবি আপলোড করেন। আর যাদের বাবা নেই, তারা বাবার ছবি পোস্ট করে, বাবাকে নিয়ে লিখে স্মৃতিচারণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম