কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না ‘সেফটি কোড’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না ‘সেফটি কোড’

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৪ ১৬ জুন ২০২১   আপডেট: ১৫:১৫ ১৬ জুন ২০২১

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দশতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে মানা হচ্ছে না সেফটি কোড

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দশতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে মানা হচ্ছে না সেফটি কোড

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দশতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে মানা হচ্ছে না সেফটি কোড। এমন অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধে। এই ভবনের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘কেএসবিএল’। জাতীয় বিল্ডিং কোড (২০১৪) আইন অনুযায়ী শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক হলেও দশতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে আইনটি মানছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন নির্মাণের সময় পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুও হয়েছে। এমনকি শ্রমিকের পরিবারকে সঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ না দেয়ারও অভিযোগ উঠেছিলো কেএসবিএলের বিরুদ্ধে।  

সরজমিনে প্রকল্পটির নির্মাণ শ্রমিকদের মাথায় হেলমেট, পায়ে বুট জুতা, সানগ্লাস, গ্লাভস কোনো কিছুই পরতে দেখা যায়নি। এমনকি কেএসবিএল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির থেকেও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

তবে উদ্যোগ না নেয়ার কথা অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক ম্যানেজার আবু হানিফ বলেন, তাদের সব উপকরণ দিয়েছি। আমি সাইটে না আসায় এরকম করেছে শ্রমিকরা। সাইটে থাকা লোকদের বলে দিচ্ছি যেনো শ্রমিকেরা হেলমেট, জুতা পরে কাজ করে।

হেলমেট না পরার কারণ জানতে চাইলে শ্রমিক মনির বলেন, ভার্সিটির স্যাররা যখন আসে তখন তো সবাইকে পরতেই হয়। এছাড়াও কেউ কেউ পরে মাঝে মাঝে। গরম লাগে, এর জন্য পরে না অনেকে। 

তবে হেলমেটসহ সব ধরনের সেইফটি গার্ড ব্যবহার না করাটা দুঃখজনক বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) একেএম জহিরুল হাসান। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনিকভাবে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে এটি শ্রমিকদের পরাতে উৎসাহিত করা যায়।

অন্যদিকে প্রকল্পে শ্রমিকদের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, যদি শ্রমিকরা সেইফটি কোড মেনে না কাজ করে তাহলে প্রাথমিকভাবে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিবো কেনো তারা তা পালন করছে না সেই সঙ্গে এই পক্রিয়ায় সমাধান না আসলে কাজ বাতিলের মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে প্রশাসন। কেন না সবার আগে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিকের।

উল্লেখ্য: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর মতে ২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭২৩ জন পুরুষ, ৬ জন নারী শ্রমিক। অন্যদিকে কেবল নির্মাণ কাজে ২০১৭-২০২০ সাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫১৩ জন শ্রমিকের।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম