চট্টগ্রামে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পেলেন চবির গবেষকদল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

চট্টগ্রামে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পেলেন চবির গবেষকদল

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৬ ১৪ জুন ২০২১   আপডেট: ১৮:২০ ১৪ জুন ২০২১

সোমবার (১৪ জুন) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এই তথ্যগুলো জানানো হয়।

সোমবার (১৪ জুন) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এই তথ্যগুলো জানানো হয়।

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল। তবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি আধিক্য বেশি পাওয়া গেছে দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের। এরইমধ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট কমিউনিটি সংক্রমণ শুরু করেছে বলেও জানান তারা।

সোমবার (১৪ জুন) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এই তথ্যগুলো জানানো হয়।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।

জানা যায়, গবেষণায় চট্টগ্রাম বিভাগের সাতটি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাব এবং হাসপাতাল থেকে ৪২টি করোনার নমুনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ২টি (৪.৮%) ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, ৩টি (৭.২%) ইটা ভ্যারিয়েন্ট, ৪টি (৯৫%) আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং বাকি ৩৩টি (৭৮.৫%) বিটা ভ্যারিয়েট ধরন শনাক্ত হয়। তবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়া দুইজন কখনোই ভারত যাননি এবং সম্প্রতি ভারত থেকে এসেছে এমন কারো সংস্পর্শেও আসেননি। তাই গবেষক দল ধারণা করছেন, চট্টগ্রামে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে।

গবেষক দলের আরেক সদস্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পাল বলেন, ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের প্রকরণ বিশ্লেষণের কাজটি কারিগরিভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং ব্যয়বহুল। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং আইসিডিডিআরবির গবেষকদলের প্রচেষ্টায় এই গবেষণাটি করা সম্ভব হয়েছে। গবেষণার ফলে বর্তমানে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের কোন প্রকরণের আধিক্য রয়েছে তা জানা যাবে, যা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে।

গবেষণা সহযোগী জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সরকার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসময় নতুন করে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়া উদ্বেগজনক। এখনই সতর্ক না হলে সংক্রমণ কমানোর বিষয়টি অনিশ্চয়তার দিকে চলে যেতে পারে।

গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী চীনের উহান থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকে এই পর্যন্ত সার্স-কভ-২ মোট ১০ বার রূপ পরির্তন করার মাধ্যমে মূলত ৬টি দেশে (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল এবং ভারত) অতিসংক্রমণ এবং মহামারি আকার ধারণ করেছে।

যৌথ এ গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনলজি বিভাগের সঙ্গে ছিলো ঢাকা আইসিডিডিআরবি। অর্থায়ন করে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি)।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম