‘স্কুল অফ পাবলিক স্পিকিং’: জড়তা যেখানে হার মানে 

ঢাকা, বুধবার   ২৩ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১০ ১৪২৮,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪২

‘স্কুল অফ পাবলিক স্পিকিং’: জড়তা যেখানে হার মানে 

আসরিফা সুলতানা রিয়া  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১১ ১২ মে ২০২১  

যার প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজীদ খান রাজিব।

যার প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজীদ খান রাজিব।

স্মার্ট, হাই-ক্লাস প্রোফাইলের মানুষও কথা বলতে গিয়ে তোতলান, কান-মুখ একেবারে লাল হয়ে যায়। ছোটোবেলা থেকে আবৃত্তি-নাচ-গানে পারদর্শী মেয়েটাকেও দেখা যায় একাডেমিক প্রেজেন্টেশন দেয়ার টেনশনে রাতের ঘুম হারাম করে ফেলে। অনেকে টুকটাক কথা বলতে পারলেও স্টেজে বা ছোট কোনো মঞ্চে উঠলে হাইপার হয়ে যান। এরকম ঘটনার উদাহরণ অনেক। আর এই কথাভীতি, বাচনভঙ্গি, জড়তা এবং আঞ্চলিকতার রেশ কাটানোর জন্যই সৃষ্টি ‘স্কুল অফ পাবলিক স্পিকিং’। যার প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজীদ খান রাজিব।

‘Express yourself loudly’ স্লোগানে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পথচলা শুরু হয় এই স্কুলের। বায়েজীদের একক প্রচেষ্টায় বর্তমানে শতাধিক সদস্যের প্রতিষ্ঠান এটি। শুরুতে পরিবারের অসম্মতি, উপযুক্ত স্থানের অভাবসহ শত বাধার সম্মুখীন হলেও নিজের দৃঢ় মনোবল আর অদম্য স্পৃহাকে পুঁজি করে এগিয়ে গেছেন তিনি। ফলস্বরূপ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়িয়ে সারাদেশে খ্যাতি লাভ করেছেন। অর্জন করেছেন অনেক সম্মান আর পুরস্কার। যারা পূর্বে বায়েজীদের বিপক্ষে ছিলেন আজ তারাও হয়েছেন প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

বর্তমানে বায়েজীদের পাবলিক স্পিকিং- এর সেশনের সদস্য স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে দেশের নামকরা ডাক্তার, পুলিশ, প্রকৌশলী। আগে যে সেশন করতে হতো কার্জন হল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মত খোলা জায়গায় আজ সেসব সেশন করতে ডাক পান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কনভেনশন সেন্টারে। যে সেশনে আগে অংশ নিত গুটি কয়েকজন, সে সেশনে এখন অংশগ্রহণ করার সুযোগ মেলাও অনেকের কাছে হয়ে পড়ে দুরূহ।

কঠিন হলেও প্রায় পাঁচ বছরে অর্জন করেছেন অনেক কিছু। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জনের গর্ব আজকের এই বায়েজীদ। নিজ গুণে কারিশমা দেখিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ডাক পেয়েছেন টিভি শো তে, কাজ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের দোভাষী হিসেবে। অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও ফজলুর রহমান বাবু, স্বনামধন্য প্রশিক্ষক ও বক্তা কাজী এম. আহমেদ, জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কুইজ মাস্টার ফেরদৌস বাপ্পী, অনলাইন এডুকেটর আয়মান সাদিক ও সাদমান সাদিক, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব সোলায়মান সুখন, জনপ্রিয় প্রশিক্ষক গোলাম সামদানী ডন, মনোবিদ ড. আলমাসুর রহমানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও মিলেছে স্কুল অফ পাবলিক স্পিকিং-এর সুবাদে। 

শুরুতে পাবলিক স্পিকিং নিয়ে কাজ করলেও বর্তমানে সিভি রাইটিং, কমিউনিকেশন স্কিল, ইন্টারভিউ, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট স্কিল নিয়েও কাজ করছেন তিনি। করোনার লকডাউনের সময়েও অবসর মেলেনি তার। ঘরে বসেই অনলাইনের সেশন পরিচালনা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ভবিষ্যতে প্রফেশনের জায়গায় অন্য পেশায় যুক্ত হলেও বায়েজীদের সঙ্গী থাকবে স্কুল অফ পাবলিক স্পিকিং।

তার জীবনের লক্ষ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নিজেকে সে জায়গায় দেখতে চাই, যে জায়গায় থাকলে আমার আশেপাশের মানুষগুলো আমার পরিচয়ে পরিচিত হতে গর্ববোধ করবেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম