গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর মায়ের গল্প 

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৮ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর মায়ের গল্প 

রাকিবুল হাসান, গণ বিশ্ববিদ্যালয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০০ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ১৭:০০ ৯ মে ২০২১

মা দিবসে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে মায়ের গল্প। 

মা দিবসে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে মায়ের গল্প। 

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে বিভিন্ন দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালিত হয় মা দিবস। আজ ৯ মে (রোববার) মা দিবস। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দুঃসময়ে এল দিনটি। মা দিবসে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে মায়ের গল্প। 

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪র্থ সেমিস্টারের ছাত্রী লিমা খাতুন বলেন, পাঁচ বছর ধরে হোস্টেল থাকছি৷ পড়াশোনার কারণেই বাড়িতে থাকা হয় না৷ প্রত্যেকবার বাড়ি থেকে বিদায় নেয়ার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদেন মা। ছোটোবেলা থেকেই মায়ের আঁচল ধরে হাঁটতাম। অভ্যাসটি রয়েই গেছে৷ এখনো মায়ের সাথে ঘুরতে গেলে আঁচল ধরেই হাঁটি। মায়ের আঁচলের তলে যে শান্তি আছে৷ তা অন্য কিছুতে নেই। 

আইন বিভাগের ৩য় সেমিস্টারের ছাত্র হাসিব মীর বলেন, বয়স তখন ৮ বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। মা-ই গৃহশিক্ষক। পরীক্ষার আগে সব বই পড়িয়ে দিতেন৷ প্রত্যেক পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হই। একদিন মাকে বলি, একটি পরীক্ষা একা পড়েই দিবো। মা রাজি হয়৷ সেই পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়। দুই বিষয়ে ফেল করি৷ এনিয়ে মা কিছুই বলেননি। আবার পড়ানো শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, আমি-ই জানি, মা আমার কী। আজীবন পাশে রেখে শিখিয়ে গেছেন তিনি। মায়ের দোয়া ছাড়া কাজে সফলতা আসে না৷ এখন বয়স বিশ৷ এখনো মায়ের থেকে শিখি। 

ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সাইন্সস অনুষদের ছাত্র ৩য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জাবির সালেহীন দ্বীপ বলেন, মধুর এক শব্দ মা। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেন তিনি৷ পৃথিবীর আলো দেখান। তাকে নিয়ে আছে হাজারো স্মৃতি। খুব ছোটবেলায় স্কুল থেকে পিকনিকে গেছিলাম। সেখানে গিয়ে নাগর দোলায় ওঠার ভীষণ বায়না করি। মা বাধ্য হয়ে আমাকে নিয়ে নাগর দোলায় উঠেন। কিন্তু মজার কথা হলো; নাগর দোলা থেকে নেমে, মায়ের বদলে অন্য মহিলার হাত ধরে চলে যাই। বুঝতে পারতেই কান্না শুরু করি। তিনি আরো বলেন, এক পলকের জন্য মাকে হারিয়ে ফেলি। সেদিন বুঝেছি মা হারানোর কী কষ্ট। পরে মাকে খুঁজে পেয়ে অনেকক্ষণ জড়িয়ে কান্না করি। 

সিএসই বিভাগের ৮ম সেমিস্টারের ছাত্র খালিদ হাসান বলেন, ছোটবেলায় অনেক দুষ্টামি করতাম। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি না গিয়ে মাঠে খেলতে গেছি। খেলা শেষে ৫টা বাজে। এদিকে আমাকে না পেয়ে শিক্ষকরাসহ খোঁজাখুঁজি শুরু করেছে আম্মু। ওইদিন ভয়ে বাসায় যায়নি। দূরে এক বাড়িতে বসে টেলিভিশন দেখছি৷ তখন আম্মু আমাকে খুঁজে পায়। সেদিন অনেক বকাঝকা মার খেয়েছি৷ আম্মুর সেই বকাঝকা আর মার খাওয়া সোনালি শৈশবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের শাসনে থাকে ভালোবাসা। 

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ২য় সেমিস্টারের ছাত্র খালেদ হোসেন বলেন, রাতে ঘুমানোর সময় গল্প শোনাতেন মা। কারেন্ট চলে গেলে হাতপাখার বাতাস করতেন। যেদিন আমি শহরে আসবো। সেদিন মা ব্যস্ত হয়ে যেতেন। কতশত জিনিস গুছিয়ে দিতেন। ছোটবেলা থেকে দেখছি মায়ের কোনো আবদার নেই। কোনো অভিযোগ নেই। একবার মা অসুস্থ হয়ে গ্রামের হাসপাতালে ভর্তি হয়। সবাইকে বলেছিল আমাকে যেন না জানায়। পরে ফোনে জানতে পারি মায়ের অসুখ। সেদিন অনেক কেঁদেছি। বড় হয়ে মাকে ভাল ডাক্তার দেখাবো৷ মায়ের না বলা আবদার পূরণ করবো।

একই বিভাগের ৩য় সেমিস্টারের ছাত্রী তাহমিদ খান বলেন, মা আমাকে কথা বলা শিখিয়েছে। ভালো স্কুলে ভর্তি করেছে৷ প্রখর রোদে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকতো মা৷ মায়েদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন হয় না কি? মা কখনো ব্যস্ততা দেখাননি৷ অবহেলা কী বুঝতে দেয়নি৷ নিঃস্বার্থে শত কষ্ট লুকিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোঁটায় মা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম