হাবিপ্রবির হতাশার দেয়াল হরেক রকম অনুভূতির সাক্ষী

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৮ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

হাবিপ্রবির হতাশার দেয়াল হরেক রকম অনুভূতির সাক্ষী

মিরাজুল আল মিশকাত, হাবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ১৬:২২ ৯ মে ২০২১

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) রিমাচত্তরের পাশে অবস্থিত  হতাশার দেয়াল

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) রিমাচত্তরের পাশে অবস্থিত  হতাশার দেয়াল

বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে আসা হাসিখুশি মুখগুলো যখন বিভিন্ন বৈচিত্রের বন্ধুদের সাথে মিশে মেতে ওঠে খুশিতে, জীবনের অর্থ ফিরে শত চেনা অচেনা মানুষের ভীড়ে। তখনি যেন সমস্ত কিছুর ওপর বিষফোঁড়া হয়ে আসে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) রিমাচত্তরের পাশে অবস্থিত  হতাশার দেয়ালে টাঙানো সেমিস্টার রেজাল্টের  চকচকে কাগজ।

বিচিত্র মানুষ এসে ধরা দেয় ক্যাম্পাস জীবনে। ব্যাকবেঞ্চার ছাত্রটির ক্লাসে মনযোগ না থাকলেও, ঠিকই মনোযোগ থাকে পরীক্ষায় খাতায়। কত রঙিন আর ধূসর স্বপ্নে মাঝে তারও ইচ্ছে থাকে, হতাশার দেয়ালে নিজের একটা ভালো সিজিপিএ দেখার। এই দেয়াল কাউকে হতাশ করে আবার কাউকে অনাবিল খুশিতে ভরিয়ে দেয়। তবে দিনশেষে সফলতার চেয়ে হতাশার গল্পই লেখা হয় ইট সিমেন্টের তৈরি সেই দেয়ালে। ডাকপিয়ন যেমন রোজ সকালে খুশি আর দুঃখের চিঠি নিয়ে হাজির হয় দুয়ারে, তেমনি ভাবে প্রতি সেমিস্টারে কিছু কষ্টের আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে রেজাল্টের সেই হতাশার দেয়াল।

ক্লাসের টপার থেকে শুরু করে ব্যাকবেঞ্চার রেজাল্টের দিন সকলেই আনমনে চোখ বুলায় এই হতাশার দেয়ালে। মনের মাঝে অবচেতন মনে এক ভয় কাজ করে সবার। শুধু এই ভেবে ‘এবারো কি হতাশ করবে সেই হতাশার দেয়াল?’ সকাল থেকেই অপেক্ষা কখন সেঁটে দেবে সেই আঠালো কাগজে লেগে থাকা কত পরিশ্রম আর হতাশার গল্প। এই হতাশার দেয়ালে লেপ্টে থাকা কাগজ জানান দেয় কতজনের কতরকমের অনুভূতি। সেদিন হয়তো কেউ খুশিতে মেতে ওঠে, কেউবা মনে করতে থাকে তার পুরোনো ভুল সময়গুলো, কেউবা প্রস্তুতি নেয় পরবর্তীতে ভালো করার জন্য।

হতাশার দেয়াল হয়তো রেজাল্ট দিয়ে একেকজনের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে কিন্তু কোনো রকমে মোটামুটি একটি সিজিপিএ পাওয়া ছেলেটিও আনন্দে ভাসে তার কাছের বন্ধুর ভালো সিজিপিএ পাওয়ার জন্য। আবার হতাশার দেয়াল পার্থক্য এঁকে দেয় তার বন্ধুদের মাঝে। বিভেদের দেয়াল একে বাধ্য করে অতীতের সম্পর্ক ভুলিয়ে দিতে। কত রাতের স্মৃতিচিহ্ন ভুলাতে বাধ্য করে এক মুহুর্তেই। কত চেনা মুখ হঠাৎ আচেনা হয়ে যায়। বাতাসে ওড়ে বিভেদের কাঁটাতার।

কখনো কখনো বন্ধুর কান্না জড়ানো গলায় নিষ্ঠুর বাস্তবতার গল্প শুনে যেতে হয় রেজাল্টের পর। নিজের ঘুনে ধরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বন্ধুকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় কেউ কেউ। কখনো চরম শত্রুও থমকে যায় এখানে, শুধু এক হতাশার দেয়ালে। নিজের বুক ফেটে কান্না বেরোলেও মুখ ফুটে কিছু বের করা সম্ভব হয় না এসময়ে।

হতাশার দেয়াল কিন্তু মানুষকে শুধু হতাশ করে এমনটা কিন্তু সত্যি নয়। হতাশার দেয়াল হাবিপ্রবির প্রতিটি শিক্ষার্থীকে শেখায় জীবনের স্বপ্ন, সাধ আর বাস্তবতার মহাপার্থক্য। আর চলতে শেখায় জনবহুল রাস্তা থেকে শুরু করে গুমোট একলা পথেও।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম