চুয়ান্ন বছরে তিতুমীর কলেজ

ঢাকা, রোববার   ১৩ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

চুয়ান্ন বছরে তিতুমীর কলেজ

শাহাদাত হোসেন নিশাদ, তিতুমীর কলেজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৪ ৭ মে ২০২১  

চুয়ান্ন বছরে পদার্পন করেছে সরকারি তিতুমীর কলেজ

চুয়ান্ন বছরে পদার্পন করেছে সরকারি তিতুমীর কলেজ

নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে ৫৩ পেরিয়ে ৫৪ বছরে পা রেখেছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি তিতুমীর কলেজ। বর্তমানে ৬৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর পদাচারণায় মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ কলেজ। 

১৯৬৮ সালে জিন্নাহ কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান জগন্নাথ কলেজের (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র-আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য মহাখালীতে অবস্থিত ডিআইটি খাদ্যগুদাম হিসেবে পরিচিত ভবনে জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রি শাখা স্থানান্তর করে জিন্নাহ কলেজ নামকরণ করেন।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান এক ভাষণে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি স্থগিত ঘোষণা দেন। সেসময় জিন্নাহ কলেজ শাখা ছাত্র সংসদের প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বে টিপু মুনশি ও শাহাবুদ্দিনসহ তৎকালীন কতিপয় ছাত্রনেতা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জিন্নাহ্ কলেজের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। তখন আনিসুজ্জামান খোকন (জিন্নাহ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক) জিন্নাহ কলেজের নাম তিতুমীর কলেজ করার প্রস্তাব করেন। ২ মার্চ ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জড়ো হলে সেখানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রবের মধ্যস্থতায় জিন্নাহ কলেজের নাম তিতুমীর কলেজ হিসেবে চূড়ান্ত হয়। সেই থেকেই নামকরণ করা হয় তিতুমীর কলেজ।

প্রতিষ্ঠার সময় কলেজটিতে শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ক্লাস নেয়া হতো। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ২২ টি ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক রয়েছেন ২১০ জন। সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কলেজটিতে রয়েছে তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি, বির্তক ক্লাব, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, নাট্যদল, শুদ্ধস্বর, আদিবাসী সংগঠন ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন। 

পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন। কলেজটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডেইলি বাংলাদেশকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আবাসন সংকট, শ্রেনীকক্ষ সংকটসহ সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। প্রতিষ্ঠাকালের তিতুমীর কলেজ থেকে আজকের তিতুমীর কলেজ অনেক উন্নত। ইতিমধ্যে ১০ তলা বিশিষ্ট ২টি আধুনিক বিল্ডিং এবং ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি হল নির্মানের কাজও শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে আরও কিছু কাজ হাতে নিয়েছি আশা করছি দ্রুত তা সম্পন্ন করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, নান পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু মহামারি করোনা সাজানো সংসারটাকে অনেকটা এলোমেলো করে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার স্বরূপে ফিরে আসবো ইনশাল্লাহ। শিক্ষার্থীদের একটা স্বপ্নে কলেজ উপহার দিতে চাই। তিতুমীর কলেজ রাজধানীর মধ্যে মডেল কলেজে রূপান্তরিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম