চিরচেনা ক্যাম্পাসের অচেনা রূপ

ঢাকা, রোববার   ১৩ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮,   ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

চিরচেনা ক্যাম্পাসের অচেনা রূপ

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৫ ৫ মে ২০২১  

জনশূন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড

জনশূন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড

পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্পাশে। শোনা যাচ্ছে চায়ের কাপের ‘টুংটাং’ শব্দ। একাডেমিক ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব শেষে একত্রিত হয়েছে যে যার মতো করে। কেউ কেউ টেবিলে, কেউ টাইলস বাধানো গাছের গোড়ায়, কেউবা আবার শান বাধানো পুকুর ঘাটে বা খোলা মাঠে সবুজ ঘাসের উপরে গোল হয়ে বসে আছে। চায়ের কাপে চুমুকের ফাঁকে খোশগল্পে মেতেছে সবাই গল্প-আড্ডায়। 

করোনার পূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন এমন প্রাণচঞ্চল আড্ডা দেখা যেতো। বর্তমানে সেসব আড্ডাস্থলে নেমে এসেছে সুনশান নিরবতা। প্রায় জনশূন্য বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। চিরচেনা ক্যাম্পাস ধারণ করেছে এক অচেনা রূপ।
 
৭৫৩ একরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবেই কোলাহল, প্রাণচঞ্চলতায় ভরে উঠতো ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রান্তর। টুকিটাকি চত্বর, শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা মুক্তমঞ্চ, শাবাস বাংলাদেশ চত্বর, বুদ্ধিজীবি চত্বর, জোহা চত্বর, ইবলিশ চত্বর, টিএসসিসি চত্বর, হবিবুর রহমান মাঠ, চারুকলা চত্বর, চারুকলার রেললাইন, বধ্যভূমি, পশ্চিমপাড়া, পলাশ চত্বরসহ ক্যাম্পাসের প্রধান আড্ডাস্থল আজ প্রাণহীন। কোথাও কেউ নেই।

তবে করোনার এই ছুটিতে ক্যাম্পাসে সেজেছে আপন মহিমায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুভাস সুভাস ছড়াচ্ছে নানা প্রজাতির ফুল। গোলাপ, বেলী, সন্ধ্যামালতিসহ বিভিন্ন বিদেশী ফুলের গাছগুলো ছড়াচ্ছে মন মাতানো সৌরভ। গ্রীষ্মের তাপদাহে রঙিন হয়েছে কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো। আর বেগুনি জারুল সুন্দরী আপন মহিমায় সৌন্দর্য বিলিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন আবাসিক হল, একাডেমিক ভবনের ভেতরে সবুজ ঘাস আর বিভিন্ন ফুলে পরিপূর্ণ হয়েছে। ক্যাম্পাসের আম, লিচু গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ধরছে ফল।

প্যারিস রোডের গগন শিরীষ গাছ, রবীন্দ্র ভবনের পাশে মেহগনি বাগান, শেখ রাসেল মডেল স্কুলের পাশে মেহগনি গাছের সারিগুলো ফিরে পেয়েছে তাদের সজীবতা। নিরব ক্যাম্পাস সরব পাখির কিচির-মিচির গানে। 

তাপসী রাবেয়া হলের পেছনের পুকুরে একক অধিপত্য বিস্তার করে আছে বকগুলো। চুপটি করে বসে ক্ষণে ক্ষণে ধরছে মাছ। এছাড়াও ঝোপ-ঝাড়ে বাসা বেধেছে দোয়েল, ঘুঘু, শালিক, ডাহুকসহ হাজারো পাখি। গাছের ডালগুলোতে খেলা করছে কাঠবিড়ালি। পুকুরগুলোতে আপন মনে খেলা করছে সাপ আর মাছ। নির্জন ক্যাম্পাস যেন এক অচেনা রূপ ধারণ করেছে।

ক্যাম্পাসের এমন সৌন্দর্য আকর্ষণ করছে শিক্ষার্থীদের। কেউ কেউ সেগুলোর স্থিরচিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। আর তাতে নস্টালজিকতায় চলে যাচ্ছেন বাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীরা। করোনার ছুটিতে টুকিটাকি চত্বর, প্যারিসরোড, ইবলিশ চত্বরের স্মৃতিগুলো হাতরে বেড়াচ্ছে তারা। করোনামুক্ত হয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের কোলাহলে, আড্ডা-গানে মুখরিত হবে ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রান্তর সেই প্রত্যাশা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম