৫০ বছর পরও সক্রিয় রাবিতে পাওয়া বিস্ফোরক দ্রব্য

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

৫০ বছর পরও সক্রিয় রাবিতে পাওয়া বিস্ফোরক দ্রব্য

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৩ ৪ মে ২০২১  

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্ব পাশের পুকুর থেকে গত মাসে উদ্ধার হয়েছে তিনটি মর্টারশেল, একটি রকেট লঞ্চার ও একটি এন্টি পার্সোনাল মাইন

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্ব পাশের পুকুর থেকে গত মাসে উদ্ধার হয়েছে তিনটি মর্টারশেল, একটি রকেট লঞ্চার ও একটি এন্টি পার্সোনাল মাইন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্ব পাশের পুকুর থেকে গত মাসে উদ্ধার হয়েছে তিনটি মর্টারশেল, একটি রকেট লঞ্চার ও একটি এন্টি পার্সোনাল মাইন। ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরকগুলো মুক্তিযুদ্ধকালীন যা পাকসেনারা ব্যবহার করতো। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও সেগুলো এখনও সক্রিয়। এই এলাকায় আরো থাকতে পারে এমন বিস্ফোরক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভালো তৎপরতা ছিলো। তার জলন্ত নিদর্শন এই মর্টারশেল ও বিস্ফোরকগুলো।

তিনি আরো বলেন, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পার্শবর্তী এলাকা জলাভূমি ছিলো। দেশ স্বাধীনের পর পাক সেনারা দেশত্যাগ করার আগে বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো এখানে ফেলে গেছে বলে আমার মনে হয়। শুধু এই জায়গাতেই রয়েছে নাকি সেটা হলফ করে বলা যাবে না। আরো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে পারে। এই এলাকায় আরও এমন বিস্ফোরক পাওয়া যেতে পারে। এগুলো যাতে কারও ক্ষতির কারণ না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজশাহীর প্রবীণ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সাংবাদিক আহমেদ শফিউদ্দিন বলেন, পাক সেনারা এই এলাকা ছাড়ার আগে তিনটি কাজ করে। তার মধ্যে তৃতীয় কাজটি ছিলো বড় বড় অস্ত্রগুলো সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া এবং গোলাবারুদ গুলো ধ্বংস করা। গোলাবারুদ পুড়িয়ে নষ্ট করতে চেয়েছিলো। যেগুলো পারেনি সেগুলো ওই পুকুরগুলোতে ফেলে দেয়। এছাড়া ব্যাংক নোট লুট করে এবং কিছু টাকা পয়সা পুড়িয়ে দেয়। যেগুলো পোড়াতে পারেনি সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হল এবং স্টেডিয়াম পার্শবর্তী পুকুরে ফেলে যায়। 

তিনি জানান, যুদ্ধের কয়েকমাস পরে টাকা পয়সা পেতে জেলেরা পুকুরগুলোতে জাল ফেলে। টাকার সাথে সাথে জালে মর্টার শেল এবং রকেট লাঞ্চারসহ বিস্ফোরক দ্রব্য উঠে আসে। এত পরিমাণ বিস্ফোরক পাওয়া যায় যে, একটি বড় স্তুপ তৈরি হয়ে গেছিলো সেখান থেকে একটি রকেট লাঞ্চার আমি সংগ্রহে রেখেছিলাম। যা ৭ বছর পর শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা তৈরি হলে সেখানে জমা দেই। এখনও সেখানে সংরক্ষিত আছে।

সাংবাদিক শফিউদ্দিন আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে পাক বাহিনী সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ এই এলাকার নিরীহ মানুষদেরকে নির্যাতন চালাতো। এখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক কারণে পুকুর খনন করতে গিয়ে ইতিহাস বের হয়ে আসছে বলে দাবি করেন তিনি। ১৯৭১ এ স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্জোহা হলে আলাদা জাদুঘর তৈরির দাবি জানান তিনি।

গত ২৭ এপ্রিল পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে একটি মর্টার শেল পান মেহেরচণ্ডী এলাকার মাছ চাষি শরীফ। এরপর ৩০ এপ্রিল একই পুকুরে দুইটি মর্টার শেল, একটি রকেট লাঞ্চার পেয়ে পুলিশকে জানায় স্থানীয় বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুয়েল। একই স্থান থেকে একটি এম ফোরটিন মাইন উদ্ধার করেন পুলিশ সদস্য মাইনুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি এলাকায় এগুলো বিস্ফোরনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, এই এলাকায় আরও বিস্ফোরক থাকতে পারে। সেগুলো কোন মানুষের ক্ষতির কারণ না হয় এর জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের জানিয়েছি। বিস্ফোরক থাকলে সেগুলো নিস্ক্রিয় করার উদ্যোগ নিতে আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। বিস্ফোরক থাকলে কিভাবে সেগুলো সরানোর ব্যবস্থা করা যায় তার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা স্থায়ী ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম