চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো আগুনে পুড়লো বনাঞ্চল

ঢাকা, সোমবার   ১৭ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো আগুনে পুড়লো বনাঞ্চল

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:২৯ ১৭ এপ্রিল ২০২১  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের গোলপুকুর সংলগ্ন পাহাড়ে আগুন লাগে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের গোলপুকুর সংলগ্ন পাহাড়ে আগুন লাগে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের গোলপুকুর সংলগ্ন পাহাড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে বনাঞ্চল। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে ওই পাহাড়ের আগুন লাগে। পরে আগুন বেশ কয়েক জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার দিকে হাটহাজারী ফায়ার স্টেশনের ১৭ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। তাদের এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর শাহিদুল ইসলাম বলেন, বিকেলের দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আমরা জানতে পেরে হাটহাজারী ফায়ার স্টেশনে খবর দিলে তারা সন্ধ্যার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কে বা কারা পাহাড়ে আগুন লাগাতে পারে এমন বিষয় জানতে চাইলে চবি প্রক্টর বলেন, আমরা এখনো বলতে পারছি না কারা এ কাজ করেছে। পরে তদন্ত সাপেক্ষে আগুন লাগার কারণ বলা যাবে। তিনি বলেন, আগুনে মানুষের কোনো ক্ষতি না হলেও পাহাড়ের অনেকটুকু বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। 

এ বিষয়ে  হাটহাজারী ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাজাহান বলেন, আগুন লাগার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। পাহাড়ে বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগায় তা নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হলেও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ দিকে পাহাড়ে আগুন লাগার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী মন্তব্য করছেন। 

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা লিখেছেন, কিছুদিন আগেও আমাদের অনুষদের ওদিকের পাহাড়ে আগুন দেখতে পাই। এছাড়া গাছ আর পাহাড় কাটা যেন নিয়মিত ঘটনা, অশুভ চক্র এমন কাজ করছে। যাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে ধ্বংস হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য, বিনষ্ট হবে প্রাকৃতিক পরিবেশ। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এভাবে পাহাড়ে আগুন লাগার ফলে যেমন লতা-গুল্ম পুড়ে ছাই হচ্ছে তেমনই করে জ্বলে যাচ্ছে বড় গাছও। পাহাড় কাটা, বৃক্ষনিধন, আগুন লাগার ফলের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতিক সৌন্দর্য যেমন করে নষ্ট হচ্ছে তেমনি হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র।  শিক্ষার্থীরা বলছেন,  প্রশাসনের উচিত এসব বিষয়ে কড়া নজর দেয়া।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের ১১ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হলের পেছনের পাহাড়ে আগুন দেখা যায়। এর দুদিন পর ১৩ মার্চ দিনের একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদের মাঝের পাহাড়ে আগুন লাগে। আগের দিনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ১৪ মার্চ ফের আগুন লাগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাহাড়ে। এরপর ১৭ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফের বঙ্গবন্ধু হলের পাশে একটি পাহাড়ে আগুন লাগে। ২১ মার্চ ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ সংলগ্ন একটি পাহাড় ও ঝর্ণার পাশের আরেকটি পাহাড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম