ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হতে চাইলে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হতে চাইলে

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৯ ১৫ এপ্রিল ২০২১  

সুযোগ পায় মাত্র ৪৮ হাজারের মতো শিক্ষার্থী

সুযোগ পায় মাত্র ৪৮ হাজারের মতো শিক্ষার্থী

উচ্চ মাধ্যমিকের পর হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। তাই নিতে হয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। নিজেকে নতুন করে আবার তৈরি করতে হয়। দেশে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ভর্তিচ্ছুদের মধ্য থেকে কেবল সুযোগ পায় মাত্র ৪৮ হাজারের মতো। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের এই যুদ্ধে জয়ী হতে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আশিক ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর নিজের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার অনেকটাই নির্ভর করে ভর্তি হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একাগ্রচিত্তে আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নেয়া। তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়ার নিশ্চয়তা বেড়ে যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটিন মাফিক পড়ার অভ্যাস করতে হবে। না বুঝে মুখস্ত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে বুঝে পড়তে হবে এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধানের পাশাপাশি সেখান থেকে ধারণা নিয়ে প্রতিদিন মডেল টেস্ট অনুশীলন করলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম কামিল আহমেদ বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি শেষ করেই প্রায় প্রত্যেক জ্ঞান পিপাসুর স্বপ্ন থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধের বৈতরণী পর হতে হয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে। যা রীতিমতো যুদ্ধজয়ের মতো। কঠিন প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় নিজের আসন পাকাপোক্ত করতে দরকার কঠোর অধ্যবসায়। গাদাগাদা মুখস্ত না করে হতে হবে কৌশলী। মূল বইয়ের খুঁটিনাটি তথ্যাদি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে হবে। ব্যতিক্রমধর্মী নিয়মগুলো বারবার সমাধান করতে হবে বুঝে শুনে। কোন রকম নেতিবাচকতায় কান না দিয়ে টেবিলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামজিদ উদ্দিন বলেন, ভর্তিযুদ্ধ নামক লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। সবার মাঝে কাজ করছে আমি কি চান্স পাবো? এই নিয়ে হতাশায় ভুগছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। চান্স না পাওয়ার প্রথম ও প্রধান কারণ হতাশা। হতাশা শিক্ষার্থীদের পিছনে ফেলে দেয়। যার ফলে চান্স পাওয়াতো দূরের কথা পজিশনও আসে না। হতাশাকে দূরে ঠেলে দিয়ে যারা সফল হওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাবে তারাই সফল হবে। অনেকেই কম জিপিএ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়। আবার একই ভাবে ভালো ফলাফল থাকা সত্বেও চান্স পায় না। তাই হতাশ না হয়ে, চান্স পাবার মানসিকতা নিয়ে পড়তে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ভর্তি পরীক্ষা মানে স্বপ্নের জায়গায় বিচরণ করার জন্য একটা সিঁড়ি মাত্র। তাই কম-বেশি সবারই চিন্তা থাকে। ‘কি পড়বো, কিভাবে পড়বো, কোনটা গুরুত্ব দিব, কোনটা দিব না’ এইসব নিয়ে। বোর্ড বইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সমসায়িক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বোর্ড বইগুলো নিখুঁতভাবে শেষ করতে হবে। বইয়ের সূত্রগুলো লিখে বারবার অনুশীলন করতে হবে। অবশ্যই কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। তবেই হবে স্বপ্ন পূরণ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মইনউদ্দিন খান সিফাত বলেন, কলেজ জীবনের শেষে মুক্ত জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান বিকাশের এক বিশাল মঞ্চের নাম বিশ্ববিদ্যালয়। আশা ভরসা, চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাস দিয়েই এ মঞ্চে নিজের আসনটিকে পাকাপোক্ত করে নিতে হয়। আর এজন্য প্রয়োজন নিজের উপর আস্থা-বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের উপর পুঁজি করেই অর্জিত হয় সাহস। সাহসের মাধ্যমেই ভর্তিযুদ্ধের ভয়কে জয় করতে হয়। ভর্তিযুদ্ধে জয়ের জন্য প্রয়োজন তিনটি বিষয়। এগুলো হলো- পরিশ্রম, পরিশ্রম আর পরিশ্রম। এক কথায় বলতে গেলে পরিশ্রমই এনে দিতে পারে সফলতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম