শূন্যতায় মোড়ানো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা বৈশাখ

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

শূন্যতায় মোড়ানো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পহেলা বৈশাখ

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১০ ১৪ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৪:৩১ ১৪ এপ্রিল ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর (ফাইল ছবি)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর (ফাইল ছবি)

শীত-বসন্তের রুক্ষতা কেটে গিয়ে প্রকৃতির কোলজুড়ে জেগে উঠেছে সবুজ-সতেজ রঙিন প্রাণ। নিয়মে থেকে প্রকৃতি কথা রেখেছে। ফুলের পসরা এখন গাছে-গাছে, ডালে-ডালে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে কৃষ্ণচূড়া, পলাশ, জারুলের রঙের বাহার। গাছে-গাছে আম, লিচু, কাঁঠাল, জামরুলসহ উঠতি ফল জানান দিচ্ছে অস্তিত্ব। এইতো বাংলার নববর্ষ বৈশাখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রূপ।

বছরের নতুন প্রভাতকে বরণ করে নিতে ঢাক-ঢোল আর গান বাজনায় মুখরিত থাকে পুরো অঙ্গণ। বিভিন্ন বিভাগ আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে শোভাযাত্রার। রং-বেরঙের পাঞ্জাবি, শাড়িতে দেখা যায় তরুণ-তরুণীদের। পুরাতন বছরের সব জরাজীর্ণতা ভুলে নতুনকে স্বাগত জানাতে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

তবে এবারে নেই কোনো আয়োজন, কোথাও নেই প্রাণচঞ্চল্যতা। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে যেনো বিরাজ করছে সুনশান নিরবতা, শূন্যতা। এ যেনো এক অচেনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতি আপন মহিমায় মতিহারের সবুজ চত্বরকে সাজালেও নেই শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, চারুকলার পলাশ চত্বর, পুরাতন ফোকলোর চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, লিপু চত্বর, শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে আমতলা, ইবলিশ চত্বর, পরিবহন মার্কেট, প্যারিস রোড, সাবাশ বাংলাদেশ মাঠ চত্বরসহ কোথাও চোখে পড়ার মতো মানুষ নেই। ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গায় এই দিনে যেখানে তিল ধারণের মতো জায়গা থাকতো না সেখানে আজ একরাশ শূন্যতা বিরাজ করছে।

পহেলা বৈশাখে মূল আকর্ষণ থাকে রাবির চারুকলা বিভাগ। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বরণ করে নতুন বছরকে। গত বছর অনলাইনে ‘ই-বৈশাখ’র আয়োজন থাকলেও এবার নেই কোনো আমেজ। 

চারুকলা অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, একদিকে লকডাউন অন্যদিকে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নেই। সবদিক বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকায় এবার কোনো আয়োজন রাখা হয়নি। গত বছর অনলাইনে ই-বৈশাখে আয়োজন ছিলো। অনলাইনে আয়োজনের জন্য আমাদের যে এক্সপার্ট টেকনেশিয়ান ছিলো তারা এবার বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। তাই অনলাইনেও বৈশাখের আয়োজন নেই।  

বৈশাখের পুরনো স্মৃতিকে মনে করে অনেকে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরনো ছবি আপলোড দিচ্ছেন। পুরনো স্মৃতি মনে করে চলে যাচ্ছেন নস্টালজিকতায়। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী দিপু রায় হৃদয় লিখেছেন, যাপিত জীবনের সংকীর্ণতা ঘুচে অগ্নি স্নানে শুচি হোক বসুধা। সবার মনে আসুক অনাবিল আনন্দ। শুভ নববর্ষ ১৪২৮।

চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মারজিয়া আকতার বলেন, প্রতিবারেই বৈশাখকে কেন্দ্র করে আমাদের আয়োজনের কোন কমতি থাকে না। নানা ব্যস্ততায় সময় কাটতো। কিন্তু এই অবসরে এবার সেটা নেই। সেই মুহূর্তগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে। গতবছরের অনলাইন আয়োজনে কিছুটা সময় আনন্দের আমেজে কাটলেও এবারে তাও নেই। এবারের বৈশাখ রোজার মধ্যে হওয়ার সেই আনন্দ আমেজ অনেকটায় ফিকে হয়ে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম