এবারো চবিতে ঈদের আমেজে নেই পহেলা বৈশাখ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

এবারো চবিতে ঈদের আমেজে নেই পহেলা বৈশাখ

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৫ ১৪ এপ্রিল ২০২১  

পহেলা বৈশাখে ছিলো ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধুলা (ফাইল ছবি)

পহেলা বৈশাখে ছিলো ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধুলা (ফাইল ছবি)

এবারো ঈদের আমেজে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন। তবে দেশের বিভিন্ন প্রাণ্তে ছড়িয়ে থাকা চবিয়ানরা কিভাবে বাঙালির প্রাণের উৎসব কিভাবে উদযাপন করেছেন? কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে আরো জানাচ্ছেন- রুমান হাফিজ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুন নাহার বিথী বলেন, বাঙালি ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় আনন্দঘন দিন পহেলা বৈশাখ। কিন্তু নতুন বছর শুরু হয়ে গেলেও সেই অনুভূতি আজ কারোরই মাঝে নেই। সবার মধ্যেই এক ধরণের চিন্তা, ভয় বিদ্যমান। বিগত বছরগুলোতে আমাদের সকাল হতো ঢাক-ঢোল আর বাঁশির আওয়াজে। আমার মতো যারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাদের সবার কাছে আজকের দিনটা ঈদের মত।

রাকিব উদ্দিন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের চেয়ে নিজের জীবন বাঁচানোটাই এখন সব থেকে বড় বিষয় তার কাছে। মাস্টার্স এ থাকায় এ বছরই তার শেষ বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। 

স্মৃতি আওড়াতে গিয়ে বলেন, বিগত বছরগুলোতে এই দিনে আমার জীবনেও পহেলা বৈশাখের অনিন্দ্য সুন্দর আমেজ ছিল। করোনার থাবার ফলে ফিকে হয়ে গেছে এবারের বৈশাখের আমেজও। আবার কবে হাওয়াই মিঠাই খাব, মেলায় ঘুরবো, ফুচকা খাবো, আইসক্রিম খাবো, সে ক্ষণগণনা করছি। দুটো নববর্ষ এভাবে কাটবে তা চিন্তাও করতে পারি নি। করোনোমুক্ত পৃথিবীতে আগামীতে দ্বিগুণভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবো সবাই। এখন জরুরি হচ্ছে নিজেকে নিরাপদ রাখা। ক্রান্তিকালীন সময়ে সবাই নিজের জায়গা থেকে অন্যের জন্য এগিয়ে আসা বেশি প্রয়োজন।

পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানোর কোনো আয়োজন নেই কোথাও। আক্ষেপের সুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিশিপ্রু মারমা বলছিলেন, নতুন বছরের এমন সকাল কল্পনাও করা যায় না। আহা! কতশত আয়োজন থাকতো পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। আমাদের জন্য এটা ঈদের আমেজ ছিলো। সব এখন স্মৃতি হয়ে গেলো। এই ঘরবন্দি নববর্ষে আমাদের প্রত্যাশা, নতুন বছরে বিপদ কেটে যাক, এমন দিন আর কখনও না আসুক। কঠিন সময় আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব, সেটাই এখন প্রত্যাশা।

প্রতিবছর ক্যাম্পাসে বৈশাখ উৎযাপন করেন আনন্দঘন পরিবেশে। মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে নিজেদের স্টলে সময় কাটান। রঙ তুলির আঁচড়ে আলপনা করেন একে অপরের গালে। আড্ডা, ছবি তোলা, হৈ-হুল্লোড়, খাওয়া-দাওয়ায় পহেলা বৈশাখের দিন বেশ আনন্দঘন সময় কাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা মো. রিপন সরকার। গতবছরের মতো এবারের বৈশাখেও ঘরে অবস্থান করছেন তিনি। 

জানালেন, বাইরে যেহেতু ঘুরতে যাওয়া নিষেধ তাই ঘরেই টিভি দেখে, শুয়ে-বসে দিন পার করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম সেবছর বৈশাখে বন্ধুরা মিলে পরিকল্পনা করলাম, বৈশাখে এমন কিছু করবো যাতে টাকা-পয়সা আয়ও হবে পাশাপাশি নিজেরাও আনন্দ পাবো। চারুকলার দুইজনসহ আরো ৬-৭ জন বন্ধু মিলে গালে আলপনা আঁকানোর কাজ করি। প্রায় ২ হাজার টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়ে রাতে সব বন্ধুরা মিলে রান্নাবান্না করে খেয়েছিলাম। দিনটা এখনো স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম