শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে গবির আইন বিভাগ

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে গবির আইন বিভাগ

রাকিবুল হাসান, গবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৩ ৮ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২২:২৩ ৮ এপ্রিল ২০২১

আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে পাবলিক ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত আসন থাকায় অনেকেই ভর্তি হন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেকেরই পছন্দের তালিকায় সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে ২০০৯ সালে চালু করা হয় আইন বিভাগ। এ বিভাগের একাডেমিক সিলেবাস প্রণিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক অনুমোদিত। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষাদাতা হাইকোর্ট ও জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত আইনজীবী।

আগ্রহী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ ২.৫ পেলে এখানে অধ্যায়নের সুযোগ পায়।

চার বছর মেয়াদী এলএলবি (সম্মান) কোর্সে ১৪০ ক্রেডিট পড়ানো হয় এবং ৮ ধাপে ৩ লাখ টাকা সেমিস্টারে ফি প্রদান করতে হয়৷ বর্তমানে এবিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮৫ ও শিক্ষক রয়েছে ৯ জন৷

এখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে সুবিন্যস্ত শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার, কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার, আড্ডা দেবার জন্য বাদাম তলা। ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক ওয়াইফাই সংযোগ থাকায় গবেষণা ও অন্য কাজে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন এই শিক্ষার্থীরা৷ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মামলা পরিচালনা শেখানোর জন্য আছে মুর্টকোর্ট।

আইনের বিজ্ঞান, দর্শন ও ব্যাকরণের প্রাথমিক ধারণাগুলো এখানে আলোচনা করা হয়। তা ছাড়া পড়ানো হয় সাংবিধানিক আইন, মুসলিম ও হিন্দু আইন, আন্তর্জাতিক আইন, আদালতের নিয়ম-কানুন, আইনের ইতিহাস ও চুক্তি আইন। স্নাতক পর্যায়ে ভূমি আইন, ক্রয়বিক্রয়–সংক্রান্ত আইন, পরিবেশ আইন, ক্রিমিনোলজি, সিপিসি, সিআরপিসি ইত্যাদি পড়ানো হয়।

এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। তা ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে, বাংলাদেশ পুলিশে, সাংবাদিকতায়, শিক্ষকতায়, রাজনীতি, ফটোগ্রাফি, ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি, লিগ্যাল কর্মকর্তা হিসেবে কর্ম করছেন। মূলতঃ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আইনজীবী ও আজীবন আদালতে অনুশীলনের সুযোগ আছে আইনের ছাত্র-ছাত্রীদের। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে পাস করলে হতে পারবে বিচারক ও বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এরা।

এখানকার ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন রনি বলেন, আইন বিভাগে পড়াশোনা করে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই মূলত আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া। এই বিভাগের শিক্ষকেরা খুবই আন্তরিক। সবাই অভিজ্ঞ এবং সবাই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী। তিনি বলেন, বিভাগের মেধাবীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বিভাগের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর ও পড়াশোনা উপযোগী।

৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফিজা খান নীলা বলেন, আইন একটি বিস্তৃত বিষয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে আইন জানার কোনো বিকল্প নেই। আইন পেশায় সফল ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

তিনি আরও বলেন, ক্যারিয়ার ভিত্তিক যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যও আইন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা জরুরি। মেধা-মনন বিকাশে ও সফল ভবিষ্যতের জন্য আইন বিভাগে অধ্যয়ন নিঃসন্দেহে যথাযথ সুযোগ ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও আইনজীবী ফারাহ্ ইকবাল। তিনি বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ব্যতিক্রমী একটি বিভাগ। শুধ বিভাগ নয়, এটি একটি পরিবার। ক্লাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করা হয়। দুর্বলদের এগিয়ে আনার চেষ্টা করে এখানকার শিক্ষকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম