আপসহীন পঞ্চাশে জাবিসাস

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আপসহীন পঞ্চাশে জাবিসাস

জাবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৩ ৩ এপ্রিল ২০২১  

৩ এপ্রিলে পঞ্চাশ বছরে পা রাখতে চলেছে এই সংগঠনটি।

৩ এপ্রিলে পঞ্চাশ বছরে পা রাখতে চলেছে এই সংগঠনটি।

৫০ বছর হিসাবে কিছু কম হলেও একটি সংগঠনের জন্য তা অনেক বেশি। এই সময়ে একটি বৃক্ষ চারা যেমন পত্র পল্লবে, ফুলে-ফলে বিকশিত হয় তেমনি বিকশিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি যা সংক্ষেপে জাবিসাস।

এই সংগঠনটি স্বাধীন বাংলাদেশের ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রথম সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। ৩ এপ্রিলে পঞ্চাশ বছরে পা রাখতে চলেছে এই সংগঠনটি। চলুন জেনে নেয়া যাক সাংবাদিকতার পুরোধা এই সংগঠনটি সম্পর্কে।

শুরুটা চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে: সাতজন সদস্য নিয়ে সূচনা হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস) নামের ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন।

আল বেরুনী হলের পাশের ক্যান্টিনে কয়েকটি চেয়ার ও টেবিল নিয়েই যাত্রা শুরু। সভাপতি পরিসংখ্যান বিভাগের ১ম ব্যাচের রাশেদ আহমেদ আলী, সম্পাদক একই ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের আবুল কাসেম। এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন উপাচার্য জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। 

মিথ ভেঙে সত্যের সারথী: দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু নয় বরং সবর্ত্র একটি রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ‘নিজেদের নেতিবাচক বিষয়গুলো উপস্থাপন করা যাবে না। এতে মানহানি ঘটবে, লোকে খারাপ বলবে’, বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা মিথ ভেঙে সাহসের সাথে সত্যকে তুলে ধরেছে। তারা বার বার প্রমাণ করেছে ‘সত্য যত তিক্তই হোক তা বলতে হবে দেশ ও জাতির কল্যাণে’।

পেশাদারিত্ব: জাবিসাস তার শুরু থেকেই সবকিছুর উপরে পেশাদারিত্বকেই প্রাধান্য দিয়েছে। কোনো এজেন্ডা সৃষ্টি কিংবা বাস্তবায়ন নয় বরং সংগঠনটির কার্যক্রমে ফুটে উঠেছে সততার সাথে সত্যকে তুলে ধরার দীপ্ত প্রয়াস। এই সাংবাদিক সংগঠনটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে কিভাবে মোকাবিলা করতে হয় সুবিধাবাদী শ্রেণিকে, কিভাবে দাঁড়াতে হয় বঞ্চনার শিকার মানুষের পাশে।

পড়াশুনার পাশাপাশি সংগঠনটির প্রত্যেক সদস্য এখনও ‘সাদাকে সাদা বলার সংগ্রামটুকুই করে যাচ্ছেন।’ স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অকপটে বলছেন নানা অনিয়মের কথা। 

আপসহীন পথচলা: শুরু থেকে আজ পর্যন্ত জাবিসাসের ইতিহাস পুরোদস্তুর ‘আপসহীনতার ইতিহাস’, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, সর্বশেষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনে জাবিসাসের আপসহীন এবং বস্তুনিষ্ঠ অবস্থানের কারণেই পত্রিকার পাতায় ওঠে এসছে প্রকৃত ঘটনা। এই পথচলায় নানা ঘাত প্রতিঘাত সত্ত্বেও জাবিসাস বজায় রেখেছিল তার পেশাদারিত্ব ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান।

বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষার্থে ক্যারিয়ার ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণের কথা। জাবিসাস এভাবেই সাহসিকতার প্রদীপ জ্বেলে আলোকোজ্জ্বল সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধাবঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় অটুট থাকবে সত্যের পথে। সংগঠনটি প্রমাণ করেছে আপসহীন পথচলায় সংকট আসতে পারে, সেই সংকট মোকাবিলা করে সত্য বলতে পারলে তা ইতিহাসের আয়নায় চির ভাস্মর হয়ে থাকে। 

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পুরোধা: সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে জাবিসাস গতানুগতিক কাজের বাইরেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে জারি রাখতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করেছেন সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার। প্রত্যেকবছর সেরা অনুসন্ধানী সংবাদগুলো দেশসেরা সাংবাদিকদের বিচারের ভিত্তিতে পুরস্কৃত করা হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতি উৎসাহিত করতে জাবিসাস এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ক্রমধারা: এই পর্যন্ত ৪০টি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে সদস্যদের ভোটে। যা দেশের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা ও নেতৃত্ব বাছাইয়ে অনন্য নজির। এখান থেকে সাংবাদিকরা বর্তমানে দেশে-বিদেশে বড় বড় মিডিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। সংগঠনটি সফলতার মূলে ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরীতে বিরাট ভূমিকা রাখছে।

শিখনেই সীমাবদ্ধ নয়: দক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরিতে বদ্ধপরিকর সংগঠনটি। যার প্রমাণ বিগত দিনের সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ কর্মশালাগুলো। যেখানে দেশি ও বিদেশি মিডিয়ার নামকরা সাংবাদিকরা থাকেন। এছাড়া দেশের সাংবাদিকতার শিক্ষকদের নিয়েও আয়োজন করা হয়েছে বহু প্রশিক্ষণ কর্মশালা। যা প্রকৃত দক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম