১৯ ঔষধি উদ্ভিদের ডিএনএ বারকোডিং করলেন চবির ৪ গবেষক 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

১৯ ঔষধি উদ্ভিদের ডিএনএ বারকোডিং করলেন চবির ৪ গবেষক 

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৬ ১ এপ্রিল ২০২১  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র খালিদ মুশ্বান ও শহিদুল হাসান শাকিল। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র খালিদ মুশ্বান ও শহিদুল হাসান শাকিল। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক ১৯টি ভেষজ উদ্ভিদের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচিত করে ডিএনএ বারকোডিং সম্পন্ন করেছেন। ডিএনএ বারকোডিং হলো একটি নির্দিষ্ট জিন থেকে ডিএনএ এর একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করে প্রজাতি সনাক্তকরণ পদ্ধতি। চবির গবেষণা ও প্রকাশনা দফতরের আর্থিক সহযোগিতায় ১৯টি উদ্ভিদের অধিকাংশেরই প্রথমবারের মতো বারকোডিং করা হয়েছে।

এ গবেষণা কর্মটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ইথনোবোটানি ও ফার্মাকোগনসি ল্যাব এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকুলার বায়োলজি ল্যাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র খালিদ মুশ্বান ও শহিদুল হাসান শাকিল। 

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএমএএম জুনায়েদ সিদ্দিকী পুরো কর্মযজ্ঞ জুড়ে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

গতানুগতিক পদ্ধতিতে ভেষজ উদ্ভিদ তথা যে কোনো উদ্ভিদের সনাক্তকরণ বেশ সময় সাপেক্ষ ও জটিল ব্যাপার। এক্ষেত্রে একটি উদ্ভিদ সনাক্তকরণে গবেষকের দক্ষতা, প্রশিক্ষিত জনবল, উদ্ভিদের ফুল-ফল ধারনের সময় ইত্যাদি অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করতে হয়। অন্যদিকে ভেষজ উদ্ভিদ সাধারণতঃ প্রক্রিয়াজাত করে শুকানো গুঁড়া করা, ভাঙানো, পেস্ট তৈরি ইত্যাদি সরবরাহ করা হয় যেখানে শ্রেণিবিন্যাসতত্ত্ব অনুসরণ করে উদ্ভিদের সনাক্তকরণ অসম্ভব। আণুবীক্ষণিক, রাসায়নিক ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ভেষজ উদ্ভিদের সনাক্তকরণ বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল; সংশ্লিষ্ট কর্মীর দক্ষতা ছাড়া ভুল হওয়ার সম্ভবনা বেশি। এসব সমস্যার সমাধানকল্পে ডিএনএ বারকোডিং এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে যে কোনো স্থানে সহজে, খুবই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভেষজ উদ্ভিদ তথা যে কোন উদ্ভিদের সনাক্তকরণ সম্ভব। এ পদ্ধতিতে উদ্ভিদের যে কোনো অংশ ব্যবহার করে সনাক্তকরণের মাধ্যমে সঠিক ভেষজ উদ্ভিদ চিহ্নিত করে ভেষজ উদ্ভিদের ভেজালীকরণ রোধ, মান নিশ্চিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। সর্বোপরি ডিএনএ বারকোডিং ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেষজ উদ্ভিদের প্রমাণীকরণ ও সম্পত্তি অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।

বারকোডকৃত ১৯ টি উদ্ভিদ প্রজাতি হলো:  Mussaenda roxburghii (শিলছড়ি), Maesa indica (মরিচ্যা), Pouzolzia hirta (জলজি), Dalbergia volubilis (অংকিলতা), Homalomena aromatic (গন্ধবিকচু), Xylia dolabriformis (লৌহা কাঠ), Ludwigia adscendens (কেশরদাম), Tetrastigma leucostaphylum (হরিনা লতা), Byttneria pilosa (হাড়জোড়া লতা), Floscopa scandens (খাড়া গাইত), Firmiana colorata (হুর উদাল), Macaranga peltata (নাইন্ন্যা বিচি), Eranthemum pulchellum (সুখ মুরালী), Gardenia latifolia (পাপরা), Swintonia floribunda (সিভিট), Artocarpus lakoocha (ঢেওয়া), Premna esculenta (ললনা), Pilea melastomoides (মেলা মরিচ্যা) এবং Jasminum sp.( বন বেলী)। এদের প্রত্যেকটির ঔষধি গুণাগুন রয়েছে। ১৯টি উদ্ভিদ প্রজাতির ৩টি জিনের ৪১টি সিকোয়েন্স এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ডাটাবেজের জিনব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে। 

দি ইন্টারন্যাশনাল বারকোড অফ লাইফ এসোসিয়েশন এর মতে বিশ্বে ১০-১০০ মিলিয়ন প্রজাতি আছে কিন্তু শুধুমাত্র বাহ্যিক ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ২ মিলিয়নেরও কম প্রজাতি সনাক্ত ও এদের সম্পর্কে জানা গেছে। এত বিশাল প্রজাতি সনাক্ত করার জন্য দক্ষ জীববিজ্ঞানীর যেমন অভাব রয়েছে তেমনি সমগোত্রীয় উদ্ভিদগুলোর শুধুমাত্র বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে সঠিক সনাক্তকরণ নিশ্চিত করা কঠিন। বাংলাদেশে ৫০০০ এর অধিক ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে এবং এদের মধ্যে প্রায় ১৫০০ ঔষধী উদ্ভিদ আছে যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ইথনোবোটানি ও ফার্মাকোগনসি ল্যাব থেকে প্রকাশিত দুটি ডাটাবেইসে (https://mpbd.cu.ac.bd, www.ebbd.cu.ac.bd) সংরক্ষিত আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯ টি ঔষধি উদ্ভিদ দিয়ে এ গবেষণার সূচনা হলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হলে পর্যায়ক্রমে ১৫০০ উদ্ভিদের ডিএনএ বারকোডিং করার জন্য গবেষকবৃন্দ প্রস্তুত আছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম