হাবিপ্রবি থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

হাবিপ্রবি থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা

মিরাজুল আল মিশকাত, হাবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৯ ৩১ মার্চ ২০২১  

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিদেশি শিক্ষার্থীরা

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিদেশি শিক্ষার্থীরা

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। সেশনজট, শিক্ষক রাজনীতি, আবাসন সংকট, অনুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সার্কুলার প্রকাশে বিলম্ব, করোনা মহামারি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানাবিধ কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। ভৌগোলিক কারণে নেপালি শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হলেও সময়ের সাথে সাথে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না পাওয়ায় কমে যাচ্ছে তাদের সংখ্যাও।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ ব্যাচের নেপালি শিক্ষার্থী ব্রিজ কিশোর ইয়াদাভ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মাঝে সম্মান ডিগ্রি দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা হাবিপ্রবি থেকে মুখ ফেরাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে না অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও। তবে সুযোগ-সুবিধা নেপালি শিক্ষার্থীরা আরো আগ্রহ হবে।

সুরাজ কুমার সাহা নামের আরেক বিদেশি শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অনেক সময় দেখা যায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে আসতে আসতেই প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর কমপক্ষে ছয়মাস আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিৎ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেও অনেক শিক্ষার্থী দেশে আসতে পারেন না। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী হাবিপ্রবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ২০১৪ সালে  ভর্তি হয় মোট ২২ জন, ২০১৫ সালে ৪২ জন, ২০১৬ সালে ৫৯ জন, ২০১৭ সালে ৬১ জন, ২০১৮ সালে ৬১ জন, ২০১৯  সালে ২৫ জন এবং ২০২০ সালে মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল হলের হল সুপার সহযোগী অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, ছেলেদের হলে সর্বোচ্চ ১৪০ জন থাকতে পারবে যদিও বর্তমানে ১০৫ জন ছাত্র রয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো এক দেশের শিক্ষার্থী অন্যদেশের শিক্ষার্থীর সাথে রুম শেয়ার করতে চায় না। এমনকি তারা একটি রুমে একজন করে থাকতে চায়। তবে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর পূর্বে তাদের যোগ্যতা যাচাই করা উচিত। কারণ বেশ কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে যারা কোনো ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা রাখে না।

তবে ছেলেদের মতো মেয়েদের হলে এমন সমস্যা নেই বলে জানা যায়। বর্তমানে প্রায় ৩৫ জন বিদেশি মেয়ে শিক্ষার্থী হাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ। 

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো যাতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সার্কুলার দেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সার্কুলারের কয়েকমাস আগেই প্রকাশ করা হয়। এতে করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করতে সুবিধা হয়। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স শাখার জন্য পৃথম অফিসরুম ও জনবল সংকট নিরসনে প্রশাসনের  হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছর সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে প্রত্যেক বিদেশি শিক্ষার্থীদের হলে ভর্তি হতে হয়। এছাড়া ওয়াই-ফাই সুবিধা, বাবুর্চি খরচসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার জন্য প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এছাড়া অতিরিক্ত কোনো ফি’ই নেয়া হয় না।

সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন ভিসি অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, করোনার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যেতে পারে। তবে আমাদের পরিকল্পনা আছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক একটি ইন্টারন্যাশনাল হল তৈরি করা। আর আবাসন সংকট না থাকলে এমনিতেই অনেক শিক্ষার্থী হাবিপ্রবিতে পড়তে আগ্রহী হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম