চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুকনো পাতার বাদামি গালিচা

ঢাকা, রোববার   ১৬ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুকনো পাতার বাদামি গালিচা

রুমান হাফিজ, চবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৩ ২৮ মার্চ ২০২১  

পায়ের তলায় মর্মর শব্দে ভাঙছে রঙিন পাতারা

পায়ের তলায় মর্মর শব্দে ভাঙছে রঙিন পাতারা

কেমন লাগবে ঝরা পাতার উপর দিয়ে হাঁটতে? শুকনো পাতার মড়মড় শব্দে এক ভিন্ন অনুভূতি নিশ্চয়ই জাগিয়ে তোলবে। প্রাণ খুলে গাইতে ইচ্ছে করবে।

‘ও ঝরা পাতা, ও ঝরা পাতাগো
তোমার সাথে আমার রাত পোহানো কথাগো
তোমার সাথে আমার দিন কাটানো কথা।’

শীত বিদায় নিয়েছে। প্রকৃতির রূপময় নিসর্গ ছুঁয়েছে বসন্ত। চারিদিকে ফুলের শোভা। কালো পীচের রাস্তা ঢেকে আছে ঝরে পড়া হলুদ আর বাদামি রঙা শুকনো পাতায়। পায়ের তলায় মর্মর শব্দে ভাঙছে পাতারা। অশান্ত বাতাসে ঝরাপাতাগুলো উড়ছে এদিক ওদিক। এমন দৃশ্যের দেখা মিলে পাহাড়, সবুজ আর প্রাণির অভয়ারণ্য খ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটা পাহাড় রাস্তা ছাড়াও, ফরেস্ট্রি রাস্তা,সোহরাওয়ার্দী রাস্তা, শাহজালাল হলের খেলার মাঠ দেখে মনে হবে লাল গালিচায় মোড়ানো। শহীদ আবদুর রব হলের আঙিনা, বিজ্ঞান অনুষদের রাস্তা হলুদ, বাদামি রঙের ঝরা পাতার আস্তরণে বন্দী।

শাহজালাল হলের খেলার মাঠ দেখে মনে হবে লাল গালিচায় মোড়ানো

চাকসু ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তার দু’ধারের জারুল, দেবদারু গাছের পাতাশূন্য শুকনো ডালগুলোতে হালকা সবুজরঙা নতুন কিশলয় উঁকি দিচ্ছে। নতুন কিশলয়ের পসরা তরুলতায় যেন নতুন হয়ে উঠেছে পুরোনো পৃথিবী।

লাইব্রেরি আর মসজিদের সামনে ঘুরে দেখা যায়, নুয়ে পড়া রাশিয়ান স্প্রুচ গাছটাতেও বসন্তের হাওয়া লাগছে। সেই হাওয়ায় গাছটা অল্প অল্প দুলছে। বসন্তের হাওয়া লাগছে বাগানের ফুলগুলোতেও। মুখোমুখি ডালপালা ছড়ানো বড় গাছগুলোতেও প্রাণের জোয়ার।

এমন দৃশ্যে মুগ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ছাড়াও আগত দর্শনার্থীরা। ঝরা পাতা আর প্রকৃতির সংস্পর্শে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে ফরেস্ট্রি রাস্তা যেন ছবি তোলার ‘হট জোন’!

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমদ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঋতুরাজ বসন্ত যেন চির রঙিন করে তুলেছে চবি ক্যাম্পাসটিকে। পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে যেন চবির পিচঢালা রাস্তায় হলুদ বাদামি ঝরা পাতারা। এর উপর দিয়ে হাটার সময় সত্যিই অসাধারণ এক অনুভূতি জেগে ওঠে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আর ফুলের সৌরভে মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস। বসন্ত যেন তার আপন সাজে আমাদের ক্যাম্পাসকে সাজিয়েছে নতুন বঁধূ রূপে। বসন্তের এই বৈচিত্র্যে পাহাড়, অরণ্য ও প্রকৃতির রাজ্যে ঘেরা এই একুশশত একরের ক্যাম্পাস, যেন দু্’হাত বাড়িয়ে কাছে ডাকছে।

কালো পীচের রাস্তা ঢেকে আছে ঝরে পড়া হলুদ আর বাদামি রঙা শুকনো পাতায়

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও মুগ্ধ চবির সৌন্দর্যে। রাউজান উপজেলা থেকে এসেছেন সুমাইয়া এবং তার দুই ভাই। জয় বাংলা চত্বরে কথা হয় তাদের সঙ্গে। বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেইটে দিয়ে প্রবেশ করেছি, দুই পাশের সারি সারি বৃক্ষ, পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলা রাস্তা ধরে আসতেই এতক্ষণের বিষন্নতা ভুলিয়ে দিয়েছে বসন্তের বিকেলের পিচঢালা রাস্তায় পড়ে থাকা পাতাগুলো দেখতে বেশ সুন্দর। আমের মুকুল, হালকা বাতাসে ঝরা পাতাদের পড়ে থাকা আর পাতা শূন্য গাছের ডালে ডালে গজানো নতুন কুড়ি দেখতে অসাধারণ লাগছে।

পাতা ঝরা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই ধরনের গাছের সংখ্যা বেশি, এর মধ্যে আছে পত্র ঝরা উদ্ভিদ আর অর্ধ পত্র ঝরা উদ্ভিদ। এখন এই সময়ে যেসব গাছের পাতা ঝরে যাচ্ছে সেগুলো পত্র ঝরা উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত। যেমন শাল গাছের কথাই বলি; দেখবেন এই সময়ে সব পাতা পড়ে গিয়ে গাছটিকে মৃত মনে হবে। তবে বৃষ্টি  বা পানির স্পর্শ পেলে পুনরায় আগের মতো হয়ে যাবে। আবার অর্ধ পত্র ঝরা উদ্ভিদগুলোর কিছু পাতা পড়বে সঙ্গে সঙ্গে নতুন পাতা গজাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম