যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন নারীরা 

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন নারীরা 

রাকিবুল হাসান, গণ বিশ্ববিদ্যালয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৫ ৮ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৭:০৫ ৮ মার্চ ২০২১

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষিকা

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষিকা

বছর ঘুরে আবার এসেছে ৮ মার্চ, বিশ্ব নারী দিবস। দিনটি ঘিরে এই সময়ে নারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিমত জানিয়েছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষিকা। 

ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সোনিয়া শিরিন বলেন, ‘বাংলাদেশ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা—সুলতানার স্বপ্নের নারীস্থান নয়।’ এখানে পুরুষ শ্রেষ্ঠত্বের আধিপত্য নিয়ে সমানভাবে বিরাজমান। যতক্ষণ না পিতৃতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা জেন্ডার সমতার বিষয়ে বুঝছেন, ততক্ষণ স্ত্রীরা নিজে যতই নিশান ওড়াক না কেন? ঘরে-বাইরে নারীর কাঙ্ক্ষিত সুদিন আসবে না। 

সোনিয়া শিরিন বলেন, অর্থ উপার্জন করেও নারী আজও স্বনির্ভর নয়, উচ্চশিক্ষা লাভ করেও সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষমতা নেই নারীর, ঘরের বাইরে নিদারুণ পরিশ্রম করে এসেও তাকে সাংসারিক কাজ সারতে হয়। এনিয়ে যিনি প্রতিবাদ করেন, তিনি সমাজ-সংসারে বিতর্কিত হন।

ফার্মেসি বিভাগের সহকারী প্রভাষক তানিয়া আহমেদ তন্বী। তিনি বলেন, রাতে বাড়ি ফিরবো কখন? সুস্থভাবে ফিরবো কী! এতটুকু নিশ্চয়তা নেই মেয়েদের। স্বাধীনভাবে কাজ করবো কোথায়? যদি অফিস, পাবলিক রোড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা বলি—কতটুকু সম্মান দিচ্ছি স্ত্রী-লোকদের! নানা ধরনের বাজে কথা বলে এদের কাজ আরো কঠিন করে দিচ্ছি! 

তানিয়া আহমেদ বলেন, যদি বাইরের দেশের দিকে তাকাই কতটা স্বাচ্ছন্দে ওরা কাজ করছে, তাদের পেছন থেকে কোনো কটু কথা শুনতে হচ্ছে নাহ, মানতে হচ্ছে নাহ ভয়ংকর সামাজিক অনুশাসনের নামে কঠিন বেড়াজাল!

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রভাষক শাহনাজ রহমান। তিনি বলেন, নারীদের সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক অধিকারের অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বের অনেক সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ করছেন। আমেরিকা, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন ইত্যাদি দেশে আমাদের নারীরা গবেষক, শিক্ষক ও অন্যান্য চাকরিজীবী হিসেবেও নিজেদের কর্মদক্ষতা দেখিয়ে যাচ্ছেন।

শাহনাজ রহমান বলেন, বর্তমানে উচ্চতর শিক্ষার জন্য বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০শতাংশই নারী শিক্ষার্থী। যারা ক্যান্সার, ন্যানোপার্টিকেল, বায়োইনফরমেটিক্স, মলিকুলার বায়োলজি, জেনেটিক্স প্রভৃতি বিষয়ের উপর গবেষণা করছেন।

ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সাইন্সেস অনুষদের সহকারী প্রভাষক জয়া চৌধুরী বলেন, বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নে রোল মডেল বাংলাদেশ। রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে খেলাধুলা, শিক্ষা, চিকিৎসা-সেবা, পর্বত আরোহন পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়! বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশসহ সবক্ষেত্রে নারীদের দখলে।

ডা. চৌধুরী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে নারীরা তাদের সীমাবদ্ধ গন্ডি অতিক্রম করে উদ্যোক্তা হিসেবেও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। কিন্তু এই চিত্র সমাজের সর্বস্তরে সমান নয়। 

বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) ড. কৃষ্ণা ভদ্র। তিনি বলেন, নারীদের স্বাধীন কতটুকু পাচ্ছি আমাদের বাংলাদেশে! সমীক্ষায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলে ৭.৬ শতাংশের কম নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। হ্যাঁ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারী, প্রমাণ করে নারীরা মেধাবী ও দক্ষ নেতৃত্ব দিতে পারে। বিভিন্ন পেশায় নারী চাকরিজীবীরা স্বাধীন মতামত দিচ্ছেন বা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন তবে তারা পুরোপুরি এখনো স্বাধীন নয়। 

তিনি আরো বলেন, নারীরা সঠিক মেধাকে কাজে লাগাতে পারছেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়িত হচ্ছেন শুধু নারী বলে। তবে কি স্বাধীনতা এসেছে? শুভ কামনায় ভরপুর হোক নারী ও পুরুষ সবার জীবন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম