বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহনির্মাণ ঋণ: শর্তেই কাবু কর্মচারীরা 

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহনির্মাণ ঋণ: শর্তেই কাবু কর্মচারীরা 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৭ ৭ মার্চ ২০২১  

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে সোনালী ব্যাংকের সাথে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে শিক্ষক কর্মকর্তারা এই ঋণ সুবিধার আওতায় আসতে পারলেও ২৫টি শর্ত মেনে ঋণ নেয়া সম্ভব নয় বলে দাবি কর্মচারীদের। 

এই ঋণ পেতে কর্মচারীদের নিজস্ব জমি থাকতে হবে, জমি সম্পূর্ণ নির্দায় প্রমাণের জন্য ওয়ারিশ সূত্রে বা ক্রয় সূত্রে সব দলিল ডকুমেন্টস, সিএস, আরএস, বিএস রেকর্ড, সয়েল টেস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং প্লান, বাড়ি করার অনুমোদনসহ কঠিন এবং সহজ মিলিয়ে প্রায় পঁচিশটির উপরে শর্ত রয়েছে। তাই সরল সুদে দীর্ঘমেয়াদী কর্পোরেট ঋণের দাবি জানিয়েছেন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বল্পসুদে গৃহনির্মাণ ঋণ পেতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় গৃহনির্মাণ ঋণ সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বল্পসুদে গৃহনির্মাণ ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে মোট ৯ শতাংশ সুদের ৪ শতাংশ ঋণগ্রহীতা আর বাকি ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দিবে বলে জানা গেছে। 

তবে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা ও সদস্য সচিব, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদ গ্রেড:১৭-২০ এর সাবেক সভাপতি হাসানুজ্জামান বলেন, সরকার এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বল্পসুদে গৃহঋণের ব্যবস্থা করলেও মূলত এর আওতায় ১০ শতাংশ কর্মচারীও ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। 

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রথমত এই ঋণ পেতে হলে তাদের নিজস্ব জমি থাকতে হবে, এর সাথে জমি যে সম্পুর্ণ নির্দায় তা প্রমাণের জন্য ওয়ারিশসূত্রে হোক বা ক্রয় সূত্রে হোক সব দলিল ডকুমেন্টস, সিএস, আরএস, বিএস রেকর্ড থাকতে হবে, যা সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য। সাথে রয়েছে সয়েল টেস্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং প্লান, বাড়ি করার অনুমোদনসহ কঠিন এবং সহজ মিলিয়ে প্রায় পঁচিশটির উপরে শর্ত। যা পূরণ করে কর্মচারীদের ঋণ গ্রহণ সম্ভব হবে না। 

তিনি বলেন, মূল বিষয় হলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মচারীদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কর্মচারীর নিজের কোন জমিই নেই। বাকি শর্ত পূরণ করাতো পরের কথা। যে কারেণ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সাথে আলাপ করে দেখেছি তাদের মধ্যে এই ঋনের চেয়ে অনেকটা সহজ শর্তে কর্পোরেট ঋণ গ্রহণে আগ্রহ বেশি। কারণ, সরল সুদে দীর্ঘমেয়াদে কর্পোরেট ঋণে শুধুমাত্র একজন সরকারী কর্মচারীর কর্মস্থলের সেলারি গ্যারান্টিই যথেষ্ট তাছাড়া এই ঋণের উপরে বীমা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা পরিবার কেউই দায়বদ্ধতা থাকবে না। 

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম বলেন, কমপক্ষে ৩ শতাংশ জমি নিজের নামে থাকতে হবে, জমির প্লান পাশ করাতে হবে এরকম বেশ কিছু শর্ত আছে। সার্কুলারে যেসব শর্ত আছে তা মেনেই ঋণ নিতে হবে। কর্মচারীদের জন্য কর্পোরেট ঋণের জন্য সোনালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ বোর্ডে আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু বোর্ড তা বাতিল করে দিয়েছে। এখন কর্মচারীরা চাইলে অন্যান্য ব্যাংকের সাথে কথা বলে কর্পোরেট ঋণের জন্য চুক্তি করতে পারে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম