রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরভ ছড়াচ্ছে রঙ-বেরঙের ফুল

ঢাকা, রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৬ ১৪২৮,   ০৫ রমজান ১৪৪২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরভ ছড়াচ্ছে রঙ-বেরঙের ফুল

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২২ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:২৪ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পুষ্পশোভিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পুষ্পশোভিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

কবির ভাষায়- ‘ফুলের মালা চাই না আমি, ফুলের সুবাস চাই, তাই তো আমি বারে বারে, ফুল বাগানে যাই।’ চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন আপনি এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে চারদিকে ফুল আর ফুল। যেদিকেই তাকাচ্ছেন নানা রঙের, নানা গন্ধের ফুল। বিস্তৃত জায়গা জুড়ে লাল, সাদা, হলুদ রঙে ছড়িয়ে গেছে। না এটা কোন গল্পের বা স্বপ্নের কথা নয়। বলছিলাম এক পুষ্পশোভিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। এ যেন এক ফুলের রাজ্য। বসন্তের ফুলে ফুলে ভরে গেছে পুরো প্রাঙ্গণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই হাতের বাম পাশের ফুলের বাগানে একবার হলেও আপনার চোখ আটকে যাবে। সেখানে ফুটে আছে নানা রঙ-বেরঙের ফুল। একটু সামনে এগিয়ে যেতেই হাতের ডান পাশের সুবর্ণজয়ন্তী টাওয়ার ঘিরে রয়েছে আরো একটি বাগান। জোহা চত্বরের চারপাশে সৌরভ ছড়াচ্ছে নানা রঙের গাঁদা ফুল।

ফুলের বাগানে একবার হলেও আপনার চোখ আটকে যাবে

ক্যাম্পাস ঘুরে আরো দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান। সিনেট ভবনের পাশে, প্যারিস রোডের পাশে, উপাচার্য ভবন, বেগম রোকেয়া হল, মন্নুজান হল, শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মতিহার হলের সামনেসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলের ভেতরের প্রতিটি স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান।

এসব বাগানে ফুটেছে নানান প্রকৃতির বিভিন্ন রঙের ফুল। তার মধ্যে রঙ্গন, সিলভিয়া, গাঁদা, চায়না গাঁদা, গোলাপ, খয়েরি গোলাপ, তাজমহল, বিশ্বসুন্দরী, বড় বিশ্বসুন্দরী, চন্দ্রমল্লিকা, মোরগ ঝুঁটি, জিনিয়া, দোপাটি, হাইব্রিড দোপাটি, জুঁই, চামেলী, টগর, জবা ও পাতাবাহার অন্যতম।

নানান প্রকৃতির বিভিন্ন রঙের ফুল

এদিকে বসন্তে ক্যাম্পাসের প্রকৃতিতে রক্তিম পলাশ, শিমুল নতুনত্ব এনে দিয়েছে। লাল ফুলগুলো সবুজ ঘাসের উপর পরে যেন লাল-সবুজের অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত। রাকসু ভবনের সামনে পলাশ ফুলের ঝরে পড়া পাপড়ি দেখে মনে হয় যেন এক পুষ্পশয্যা। সেখানে বসে কেউ মনের সুখে সেলফি তুলে সময় পার করছে।

বাগান পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা মালি মুনশাদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার প্রায় ১৫ প্রজাতির ফুল গাছ লাগানো হয়েছে। অনেক গাছে ফুল ফুটেছে আবার কোনটাতে এখনও ফুটেনি। সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এসব গাছ লাগানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার প্রায় ১৫ প্রজাতির ফুল গাছ লাগানো হয়েছে

ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী স্বর্নালী আক্তার বলেন, সাজানো গুছানো ক্যাম্পাস হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার কাছে এক টুকরো স্বর্গ মনে হয়। বর্তমানে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে ক্যাম্পাসের চারপাশ। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই যেন মনে হয় কোনো এক ফুলের রাজ্যে প্রবেশ করেছি।

মূল ফটক থেকে জোহা চত্বর পর্যন্ত ফাঁকা জায়গায় এবারে প্রথম ফুলের বাগান করা হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে জোহা চত্বরের পর্যন্ত ফাঁকা জায়গাতে এবারে প্রথম ফুলের বাগান করা হয়েছে। এর আগে এখানে ক্রিস্টাল পাম গাছ ছিলো। গাছগুলো মারা যাওয়াতে সেগুলো কেটে ফাঁকা জায়গাকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য ‘বটল পাম’ গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি গোলাপ, রঙ্গন, সিলভিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ লাগানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী, শিক্ষার্থীরা এর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সমারোহে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সৃষ্টি করেছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম