হাতে আঁকা পণ্যে চবির সালমা এখন সফল উদ্যোক্তা 

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

হাতে আঁকা পণ্যে চবির সালমা এখন সফল উদ্যোক্তা 

রুমান হাফিজ, চবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪০ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

শিক্ষকতার পাশাপাশি সালমা আক্তার খুব অল্প সময়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন

শিক্ষকতার পাশাপাশি সালমা আক্তার খুব অল্প সময়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন

সালমা আক্তার। পেশায় কলেজ শিক্ষক। জন্মস্থান চাঁদপুর হলেও বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা সবই চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন। 

বর্তমানে চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের প্রভাষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। উচ্চতর ডিগ্রির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সালমা আক্তার খুব অল্প সময়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

‘নাগরদোলা’ নামে হ্যান্ড পেইন্ট নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী। এই প্রতিষ্ঠানের মূল সিগনেচার পণ্য হ্যান্ড পেইন্ট শাড়ি। এছাড়াও হ্যান্ড পেইন্টের কামিজ, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, হিজাব, ইয়োক, গৃহসজ্জার জন্য হ্যান্ড পেইন্ট কুশন কভার, বেডশিট ও ওয়াল পেইন্টিং, সরা পেইন্টিং এবং গহনার মধ্যে সিগনেচার গহনা হ্যান্ডমেইড ক্লের তৈরি গহনা, বিভিন্ন মিডিয়ার উপর হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজ করা গহনা ও মেটালের গহনা নিয়ে কাজ করছেন।

এই উদ্যোগের যাত্রা শুরুর গল্পটা জানালেন সালমা আক্তার, শুরু হয়েছিল ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ সালে। উদ্যোগটি শুরু করার জন্য একটি বিশেষ দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। এই বিশেষ দিনটি হলো হুমায়ূন আহমেদ স্যারের জন্মদিন।

তবে নাগরদোলা নাম সম্পর্কে জানতে চান অনেকে। আমি বলি নাগরদোলা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির একটি অংশ। যা বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। যেহেতু আমার কাজ দেশীয় পণ্য এবং সংস্কৃতির উপকরণ নিয়ে। তাই নাগরদোলা নামকরণ করা হয়েছে।

সালমা বলেন, হাতের কাজের কদর সবসময়ই থাকে এটা বলতেই হয়। কিন্তু আমার এই উদ্যোগ শুরু করার আগে আমি অনেকটা সময় নিয়ে বাজার বিশ্লেষণ করি। যার ফলে উদ্যোগের শুরু থেকেই খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। কেননা ভিন্নধর্মী কাজের সংমিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা ছিল আমার। যার ফলে আমার প্রধান ক্রেতা মূলত নারীরা। বিশেষ করে ২৫-৪৫ বছর বয়সী নারী। যদিও আমরা চেষ্টা করছি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই হ্যান্ড পেইন্ট এর বিভিন্ন মাধ্যমের উপর কাজের সংমিশ্রণ ঘটাতে। ভালো লাগার বিষয় এটি যে, আমাদের পুরনো ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি।

আর্থিক লাভের কথাও জানালেন সালমা। বর্তমানে অফ-সিজনে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আর অন সিজনে ৫০-৬০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। আমাদের হাতের কাজের ধরন আমরা চাইলেও অতিরিক্ত অর্ডার নিতে পারি না। তবে বড় পরিসরে আমাদের উদ্যোগ পরিচালনার কাজ চলছে। এই কাজের চাহিদা দিন দিন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের প্রতি সালমার পরামর্শ, নতুন উদ্যোক্তা যারা হ্যান্ড পেইন্ট নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বা নতুন শুরু করেছেন তাদের জন্য বলবো হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজের কদর বেশি থাকার মূল কারণ এই কাজ অন্য সব কাজ থেকে ভিন্ন। এখানে ক্রেতা তার পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বা গহনা বা গৃহসজ্জার কাজ করিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকায় ক্রেতাগণ এই পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী। আর তাই এই কাজ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে ছবি আঁকার উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরো কতদূর নিয়ে যেতে চান? সালমা বলেন, শখের বশে নয়, দীর্ঘ পরিকল্পনার পর এই উদ্যোগটি শুরু করেছি। আমার মূল স্বপ্ন হ্যান্ড পেইন্টের কাজকে একটি শিল্পে রূপান্তরে কাজ করা। হ্যান্ড পেইন্ট এবং হ্যান্ড মেইড ভিন্নধর্মী ও রুচিশীল কাজের বিস্তার ঘটানো। যা আমাদের দেশীয় পণ্যের বাজারকেও সম্প্রসারিত করবে। কেন না আমরা এই কাজে যে জিনিসগুলো ব্যবহার করি তা মূলত দেশিও কারিগর, তাঁতী দ্বারা তৈরি। হ্যান্ড পেইন্ট এর কাজের বর্তমানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশে ও দেশের বাইরে। বাংলাদেশের নিজস্ব একটি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায় এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম