জ্ঞান পিপাসা মেটাচ্ছে ঢাবি গ্রন্থাগারের ৯ লাখ বই 

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১০ ১৪২৮,   ১০ রমজান ১৪৪২

জ্ঞান পিপাসা মেটাচ্ছে ঢাবি গ্রন্থাগারের ৯ লাখ বই 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:২৮ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৪:৪৮ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত থাকা শিক্ষার্থীদের অবদানের জায়গা দখল করে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।

দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত থাকা শিক্ষার্থীদের অবদানের জায়গা দখল করে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।

রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে জাদুঘরের সামনে দিয়ে রাস্তা ধরে দু’কদম হাঁটলেই হাতের ডানপাশে চোখে পড়বে কাজী নজরুল ইসলামের কবর। এরপরই কেন্দ্রীয় মসজিদ। এর পাশ ছুঁয়ে যাওয়া পিচঢালা পথের পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার। 

তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটিই দেশের সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা কলেজ ও ল’ কলেজের আঠারো হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে আছে ৯ লাখ বই। বইয়ের পাশাপাশি আছে ত্রিশ হাজারের মতো বিরল পাণ্ডুলিপি। 

মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বইয়ের পাশাপাশি প্রচুর জার্নালের সংগ্রহ রয়েছে। যা বাইরের কোথাও থেকে পড়তে হলে অনেক অর্থ খরচ করতে হতো। আমার লাইব্রেরির জার্নালগুলো ব্যবহার করে আমাদের গবেষণার জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারি। এছাড়া লাইব্রেরির নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনামূল্য পৃথিবীর অনেক জার্নাল পড়ার সুবিধাকেও কাজে লাগাতে পারি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, গ্রন্থাগারের মাধ্যমে জ্ঞান সমুদ্রে বিচরণ করে জ্ঞানের মণিমুক্তা সংগ্রহের বিচিত্র সুযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে গ্রন্থাগারের প্রতিটি বই শিক্ষার্থীকে আলাদা আলাদা জ্ঞান বা বিষয় সঙ্গে পরিচয় করাতে পারে। গ্রন্থাগার কেবল জ্ঞান সমৃদ্ধিতেই নয়, মানসিক গঠনেও শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে।

দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত থাকা শিক্ষার্থীদের অবদানের জায়গা দখল করে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।ভর্তির পর থেকে চাকরির প্রস্তুতি পর্যন্ত এই লাইব্রেরির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক যেন আত্মার। প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই অমলিন স্মৃতি জমা আছে লাইব্রেরির সঙ্গে। কর্মজীবনে প্রবেশের পর হঠাৎ ঘুরতে এসে স্মৃতির টানে একটু থমকেই যেতে হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর ইমাউল হক সরকার টিটু বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়ে এসেছি। এখনও মিস করি খুব এই গ্রন্থাগারটিকে। লাইব্রেরিটি যথেষ্ট সমৃদ্ধ। নিজের জ্ঞানকে বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট সংগ্রহ এতে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের তুলনায় জায়গা খুবই কম। আর বইগুলো সব ভেতরে থাকায় শিক্ষার্থীরা সব বই সহজে পেতে পারে না। তাই বইগুলো যদি ভেতরে না রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা যায় তাহলে পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আরো আগ্রহী করে তুলবে বলে আমি আশা করি। 

নতুন আঙ্গিকে গ্রন্থাগার নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন মুন্সি। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এই গ্রন্থাগার ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই মাস্টারপ্ল্যানে থাকছে ২০তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন। কাজ শেষ হলে শুধু দেশে নয়, বিশ্বে অনন্য এক লাইব্রেরি হিসেবে গণ্য হবে। 

তিনি আরো বলেন, অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে প্রত্যেক বিভাগ বা ইনস্টিটিউটকে লাইব্রেরি ভাগ করে দেয় আমাদের কিন্তু ভাগ ভাগ করে লাইব্রেরি নেই। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে এই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে। তাদের জন্য ২০তলা ভবন খুব বড় কিছু না হলেও যদি সুন্দরভাবে সাজাতে পারি শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের ক্ষুধা মিটাতে পারবে। আগ্রহী হয়েই শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিমুখী হবে। 

কেমন হবে আধুনিক লাইব্রেরিটি সে বিষয়ে গ্রন্থাগারিক বলেন, প্রত্যেকটা ফ্লোরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ৩০-৫০ টি কম্পিউটার স্থাপন করবো যেগুলো শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারবে। আবার শিক্ষার্থীরা চাইলে ল্যাপটপ নিয়েও আসতে পারবে। শতভাগ ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া হবে। লাইব্রেরিটিতে থাকবে কনফারেন্স রুম, অডিটোরিয়ামও।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/এমকেএ