আশ্বাসে স্থগিত চবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ঢাকা, রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৬ ১৪২৮,   ০৫ রমজান ১৪৪২

আশ্বাসে স্থগিত চবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

চবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৩৭ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

চলমান পরীক্ষা স্থগিতাদেশের প্রতিবাদে শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। 

চলমান পরীক্ষা স্থগিতাদেশের প্রতিবাদে শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে স্থগিত করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করে নেয় শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর ১২টা থেকে চলমান পরীক্ষা স্থগিতাদেশের প্রতিবাদে শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। 

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি পেশ করেন। সেই দাবিগুলো হলো, ১. চবির চলমান পরীক্ষা স্থগিত না করা, ২. পরীক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল খোলা ৩. শাটল ট্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু করা। 

এদিন দুপুরে জয় বাংলা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দেওয়ান তাহমিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের আহমেদ কাওসার, বাংলা বিভাগের নিজামুদ্দীন টিপু, নৃবিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ জাহেদ, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ, ইংরেজি বিভাগের শাহ মোহাম্মদ শিহাব, প্রত্যয় নাফাক, বাংলা বিভাগের জান্নাতুস সাদিয়া পুষ্প, নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিপ্লব, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সায়মা জাহান, পালি বিভাগের সলীল চাকমা।

বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সেশনজট এড়াতে আন্দোলন করে পরীক্ষা প্রশাসন থেকে আদায় করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে এসেছে। হল খোলা না থাকায় নতুন করে বাসা, কটেজ ভাড়া নিতে হয়েছে। এইমূহুর্তে এসে পরীক্ষা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রহসন ব্যাতিত কিছু নয়। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই আমাদের চলমান পরীক্ষার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করবো না। সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবো।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এবছর জানুয়ারি মাস থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও অঙ্গীকারনামা নিয়ে বিভিন্ন অনুষদের পরীক্ষা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এখন মাঝপথে এসে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এরকম প্রহসন মেনে নেয়া যায় না উল্লেখ করে স্নাতক শেষবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নির্বিঘ্নে দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এসেছে। প্রশাসন তা মানেনি, উল্টো পরীক্ষা স্থগিত করছে। তাদের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেছি। তবে দাবি আদায় করে নেয়ার জন্য আমরা আরো জোরালো কর্মসূচি পালন করব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে আমরা চলমান পরীক্ষা স্থগিত করেছি। যেহেতু শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছে আমরা বিষয়টি নিয়ে বসবো। সোমবারের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জানাবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম