ভেজালমুক্ত খাবার নিয়ে সাইফুল-রাকিবের ‘অর্গানিক ফুড’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ৩০ ১৪২৭,   ২৯ শা'বান ১৪৪২

ভেজালমুক্ত খাবার নিয়ে সাইফুল-রাকিবের ‘অর্গানিক ফুড’

রুমান হাফিজ, চবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৭ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:৪১ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও রাকিব উদ্দিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও রাকিব উদ্দিন

আমাদের সমাজের একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, পড়াশোনা করলেই বিসিএস ক্যাডার, ব্যাংককার কিংবা শিক্ষক হতে হবে। এসব না হতে পারলে অন্তত কোন রকম তৃতীয় শ্রেণির হলেও একটা সরকারি চাকরিতো লাগবেই। কিন্তু এসবের কিছুই হতে আগ্রহী না দুই বন্ধু সাইফুল আর রাকিব। তারা ভিন্নধর্মী এমন কিছু করার চিন্তা করতেন, যাতে মানুষের সেবার পাশাপাশি  অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারেন।  সেই উদ্দেশ্য থেকেই দুই বন্ধু ‘অর্গানিক ফুড’ নামে খাদ্যপণ্যের ব্যবসা শুরু করলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও রাকিব উদ্দিন। দুজনের বাড়িও কুমিল্লায়। শুরুটা কেমন করে তাদের? সাইফুল ইসলাম জানালেন, ২০২০ সালের শুরুতে আমরা একটা পরিকল্পনা করি মানুষকে ভেজালমুক্ত খাবার কিভাবে দিতে পারি। এই বিষয় নিয়ে প্রায় ৩-৪ মাস খোঁজ খবর নিতে থাকি। করোনার কারণে সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়ে গেলো, সবার মতো আমরাও যার যার বাসায় বন্দী। হঠাৎ বুদ্ধি আসলো আপাতত আমাদের ব্যবসার প্রচারটা অনলাইনে চালানো যায়৷ এরপর ১৭ জুন আমরা ‘অর্গানিক ফুড’ নামে ফেসবুক গ্রুপ খুলে প্রচারণা শুরু করলাম। খুব অল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু।

ইতিবাচক সাড়াও মিলছে তাদের এই উদ্যোগে। রাকিব উদ্দিন জানালেন, আমরা ফ্রেশ খাবারগুলোর গুণগত মান ঠিক রেখে গ্রাহকদের পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি। পণ্যের বেশিরভাগ প্রান্তিক কৃষক থেকে সংগ্রহ করি। শতভাগ ভেজালমুক্ত পণ্য গ্রাহকদের দেয়ার চেষ্টা করছি। 

বিশেষ করে আমের মৌসুমে বেশ ভালো বিক্রি করতে পেরেছি। এছাড়াও ঈদুল আজহার সময়ে গ্রামের প্রকৃত মালিক থেকে কিছু গরু এবং ছাগল বিক্রি করি যেটা আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জ ছিলো। শুরু থেকে আমরা যতটুক আশা করেছি তার থেকে অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি এবং কাছের মানুষগুলো নানাভাবে আমাদেরকে অনুপ্রেরণা  দিয়ে আসছেন।

পঞ্চাশ এর বেশি পণ্য এখন: শুরুতে মাত্র কয়েকটি পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখন তাদের কাছে ৫০ এর অধিক পণ্য  রয়েছে। এরমধ্যে তেতুল কাঠের ঘানিতে ভাঙ্গানো খাঁটি সরিষার তেল, সুন্দরবনের খলিশাফুলের মধু, প্রাকৃতিক চাকভাঙা কালোজিরা ফুলের  মধু , মিশ্রফুলের  মধু, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম,  চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, আখরোট, কুমিল্লার  বিখ্যাত রসলামলাই, বগুড়ার দই, খাঁটি ঘি, নানারকম খেঁজুর, এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনেট ওয়েল, কালোজিরার তেল, এক্সট্রা ভার্জিন  অলিভওয়েল, কালোজিরা, তালমিরছি, তিল, অর্গানিক শুটকি, আপেল সিডার ভিনেগার,   ছড়া পিটা, গুঁড়া পিটা, সিলেটের চা-পাতা,  স্বাস্থ্যকর  নানা ধরনের ফ্রোজেন ফুড এবং  নানা ধরনের মৌসমি ফল ইত্যাদি।

পরবর্তীতে আরো নতুন পণ্য বাড়ানোর এবং সঙ্গে সহজলভ্য করার কথা জানালেন তারা।  এছাড়াও কোনো পণ্য অনিচ্ছাকৃত একটু খারাপ হয়ে গেলে তারা গ্রাহকদেরকে পুনরায় ফিরত   দিয়ে থাকেন, এক্ষেত্রে ক্ষতি হলেও তাদের দুঃখ নেই। কারণ হিসেবে বললেন, ‘সবকিছুর উপরে সততাই আমাদের মূলধন।’

অর্গানিক ফুড নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনাও জানালেন দুইজন। ‘ব্যবসা নিয়ে আমাদের স্বপ্নটা অনেক বড়। যত বাধাই আসুক আমরা আমাদের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা  চালিয়ে যাবো। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে আমাদের অর্গানিক ফুড পৌঁছে  যাবে। আগামী দুই বছরের মধ্য প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আমাদের অর্গানিক ফুডের একটি করে দোকান করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে দেশের প্রত্যেক জেলাতে করার ইচ্ছে। ঝুঁকি তো আছেই, তবে আমরা বিশ্বাস করি পণ্যের মান ভালো হলে ক্রেতা আসবেই। সেই সঙ্গে সফলতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম