রাতে হলেই থাকছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ৩০ ১৪২৭,   ২৯ শা'বান ১৪৪২

রাতে হলেই থাকছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৪১ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ০২:৫৪ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

রাতে ক্যাম্পাসে ক্যারাম খেলছেন দুই শিক্ষার্থী

রাতে ক্যাম্পাসে ক্যারাম খেলছেন দুই শিক্ষার্থী

রাতে হলেই থাকছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হলের ফটকের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশের পর রাতে হলে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকাকে নিরাপদ মনে করছি না। তাই এখন হলে থাকার বিকল্প নেই।

তবে তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করাকে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের পরিপন্থী এবং হল খোলার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

হলের ভিতরে গানের আড্ডায় জাবি শিক্ষার্থীরা

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।

এর আগে হামলার প্রেক্ষিতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বেলা ১১টার দিকে তিনটি দাবি পেশ করেন তারা। দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও বিচার ও আহত শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন, গেরুয়ার সঙ্গে ক্যাম্পাসের সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল খুলে দেওয়া।

এ সময় আজ দুপুর ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

দাবি ঘোষণার পর শহীদ মিনার থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ধরে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

জাবি শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গেলে শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাব্যয় ও ক্ষতিপূরণ এবং গেরুয়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক নির্মাণের দাবি মেনে নেন।

তবে হল খোলার দাবি না মেনে তা সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।

এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বিক্ষোভ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ফটকের তালা ভাঙতে শুরু করেন। একে একে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবক'টি হলে প্রবেশ করেন তারা।

বিকেলের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলসহ ছাত্রীদের বেশকটি হলে তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রশাসন। তবে এখনও ছাত্ররা হলে অবস্থান করছেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী গেরুয়া এলাকাবাসী। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী আহত হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইকেডি