রোগীর জরুরি মুহূর্তে ঢাবির তিন শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা

ঢাকা, শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২১ ১৪২৭,   ২১ রজব ১৪৪২

রোগীর জরুরি মুহূর্তে ঢাবির তিন শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১১ ২৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:১১ ২৬ জানুয়ারি ২০২১

সা`দ বিন কাদের চৌধুরী, সবুর খান, ও রফিকুল ইসলাম সবুজ। 

সা`দ বিন কাদের চৌধুরী, সবুর খান, ও রফিকুল ইসলাম সবুজ। 

করোনা সংক্রমণের সময়ে শ্বাসকষ্টের রোগীদের জরুরি মুহূর্তের অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দিতে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। করোনার শুরুতে এই সেবা চালু করে এখনও শেষ হয়নি তাদের সেবা কার্যক্রম। 

গত সাতমাসে, ২১৫ দিনে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ৫২২ জন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন তাদের এই অক্সিজেন সেবা। 

‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ নামে মাত্র ৬টি সিলিন্ডার নিয়ে প্রথমে ঢাকায় শুরু হয় এবং পরে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরসহ জেলাতে সেবাটি চালু করা হয়। এরপরে দেশের প্রত্যন্ত সব এলাকায় জরুরি মুহূর্তের সেবা দিতে কুরিয়ারের মাধ্যমেও অক্সিজেন সেবা দিচ্ছে উদ্যোক্তারা। 

তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সা'দ বিন কাদের চৌধুরী, ডাকসু সদ্য সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স। 

সা'দ বিন কাদের চৌধুরী পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর, সবুর খান কলিন্স তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ও রফিকুল ইসলাম সবুজ এমফিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ থেকে। 

সেবা দিতে গিয়ে নিজেরাও আক্রান্ত হয়েছেন কোভিড-১৯ এ। একইসাথে সাদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে। কিন্তু কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাদের এই কার্যক্রমকে। নিজেদের অনুপস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছেন তারা। ঈদ, পূঁজা বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানের দিনও বন্ধ হয়নি তাদের সেবা। 

উদ্যোক্তারা জানান, গত বছরের ২৫ জুন ঢাকা থেকে শুরু হয় তাদের এই কার্যক্রম। একই বছরের ২৫ ও ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে এই সেবা কার্যক্রম চালু হয়। এরপর দেশজুড়ে ৬ আগস্ট কুরিয়ারের মাধ্যমে সারা দেশে কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি সপ্তাহে সিলেট বিভাগীয় শহরে এবং কক্সবাজার জেলায় এ সেবা চালু হয়েছে। 

বাজারে অক্সিজেন স্বল্পতা ও উচ্চমূল্যের চাপে অনেককেই বেগ পেতে হয় সিলিন্ডার জোগাড় করতে। এই মহামারির সময়ে মানুষদের এমন দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করতে যাতে আর কারো জীবন বিপন্ন না হয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। 

সার্বিক বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে সাদ বিন কাদের চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা সারাদেশে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। ঢাকা থেকে সিলিন্ডার পাঠিয়ে দিলে আমাদের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা সেবাপ্রার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তাছাড়া যেসব বিভাগীয় শহরগুলোতে চালু রয়েছে সেখান থেকেও আশপাশের জেলাগুলোতে সিলিন্ডার পাঠাতে পারি যেসব জেলা বিভাগীয় শহর থেকে দূরে সেসব জেলায় আলাদা করে সেবা চালাচ্ছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম