নির্ভুলভাবে ৪৩তম বিসিএসের ফরম পূরণের পদ্ধতি

ঢাকা, শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২১ ১৪২৭,   ২১ রজব ১৪৪২

নির্ভুলভাবে ৪৩তম বিসিএসের ফরম পূরণের পদ্ধতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ২৫ জানুয়ারি ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ৩০ ডিসেম্বর অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এ মাসের ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ চলবে। 

যদিও আবেদনের মেয়াদ বাড়াতে সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এরইমধ্যে ৪৩তম বিসিএসের আবেদনের সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে  ইউজিসি। এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন জানিয়েছেন আবেদন করার সময় আরো এক মাস বাড়ানো হতে পারে।

বিসিএসের স্বপ্নপূরণের এ অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আবেদনপ্রক্রিয়া। এটি কোনোভাবেই ভুল হওয়া চলবে না। আসুন জেনে নেই যেভাবে নির্ভূলভাবে করবেন ৪৩তম বিসিএসের আবেদন। 

প্রথমেই আবেদনসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd/) গিয়ে ৪৩তম বিসিএসের অনলাইন আবেদন লেখাটাতে ক্লিক করুন। আপনার সামনে জেনারেল ক্যাডার, টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডার এবং বোথ ক্যাডার রেডিও বাটন–সংবলিত তিনটি অপশন দৃশ্যমান হবে। আপনি যোগ্যতা ও পছন্দ অনুসারে যেকোনো একটি রেডিও বাটন সিলেক্ট করে অ্যাপ্লাই বাটনে ক্লিক করুন। এরপরই বিপিএসসি-১ ফরম ওপেন হবে, যা তিনটি পার্টে বিভক্ত। পার্ট-১ ব্যক্তিগত তথ্য, পার্ট-২ শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পর্কিত তথ্য এবং পার্ট-৩ ক্যাডার চয়েস–সংবলিত তথ্য। এবার ফরম পূরণ করা শুরু করুন।

প্রথমেই এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী ক্যাপিটাল লেটারে আপনার নাম, মাতার নাম, পিতার নাম লিখুন। আপনার জন্মতারিখ লিখুন, পুরুষ হলে Male, নারী হলে Female পূরণ করুন। তৃতীয় লিঙ্গের হলে Third Gender রেডিও বাটন চাপুন।

বেকার হলে Not Employed, রাজস্ব খাতের সরকারি চাকরি হলে Regular Basis under Revenue Budget, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হলে Autonomous or Semi-autonomous Organization, বেসরকারি হলে Private Organization সিলেক্ট করুন। চাকরিতে আছেন উল্লেখ করলে পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে Non Objection Certificate (NOC) নিয়ে, সেটা পিএসসিতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় জমা দেওয়া লাগবে না।

উপজাতি হলে Yes রেডিও বাটন চাপুন। অন্যথায় No বাটন চাপুন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলে Child of Freedom Fighter, নাতি বা নাতনি হলে Grand Child of Freedom Fighter, মুক্তিযোদ্ধা কোটা না থাকলে Non Freedom Fighter সিলেক্ট করুন। যতটুকু জানি, বর্তমানে কোটা সুবিধা নেই। এ অপশন রাখা হয়েছে শুধু বয়সের জন্য। স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রার্থীরাও এ সুবিধা ভোগ করেন।

বিবাহিত হলে Married রেডিও বাটন চাপুন। তারপর স্বামী বা স্ত্রীর নাম লিখুন। বিবাহিত ছাড়া অন্য যা–ই কিছু হোন না কেন, Single বাটন চাপুন।

জাতীয়তা বাংলাদেশি। তবে এ অপশন সিলেক্ট করাই থাকবে। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে Yes রেডিও বাটন চাপুন এবং পরিচয়পত্র নম্বর দিন। পরিচয়পত্র না থাকলে No রেডিও বাটন চাপুন। পরবর্তী সময়ে পরিচয়পত্র পেলে আবেদন করে পিএসসিতে জমা দেবেন। প্রতিবন্ধী না হলে None বাটন চাপুন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলে Visually Disabled বাটন চাপুন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলে Physically Disabled বাটন চাপুন। উচ্চতা সেন্টিমিটার (cm) এককে লিখুন। আপনার উচ্চতা সেন্টিমিটারে জানা না থাকলে ইঞ্চিতে জানা উচ্চতাকে ২.৫৪ দ্বারা গুণ করলে সেন্টিমিটারে পরিণত হবে। যেকোনো ওজন মেশিনে ওজন মেপে ওজন কিলোগ্রামে (Kg) লিখুন। সাধারণ অবস্থায় বুকের মাপ সেন্টিমিটার (cm) এককে লিখুন।

আপনি বর্তমানে যে ঠিকানায় অবস্থান করছেন এবং চিঠিপত্র পেতে চান, সেই ঠিকানার প্রযত্নে, গ্রাম, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর ও ডাকঘরের কোড ক্যাপিটাল লেটারে লিখুন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পর বর্তমান ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।

স্থায়ী ঠিকানার প্রযত্নে, গ্রাম, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর ও ডাকঘরের কোড ক্যাপিটাল লেটারে লিখুন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পর স্থায়ী ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।

যেহেতু বর্তমান ও স্থায়ী উভয় ঠিকানায়ই ভেরিফিকেশন হয়, তাই বর্তমান ঠিকানা আর স্থায়ী ঠিকানা এক দেওয়া ভালো। তাতে ঝামেলা কম হবে। নারীরা নিজের সুবিধামতো বাবার বাড়ি বা স্বামীর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করতে পারেন।

যে মোবাইল নম্বরে পরীক্ষাসংক্রান্ত এসএমএস পেতে চান, সেই মোবাইল নম্বর লিখুন। কোনো সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষ যাতে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে জন্য নিজের নম্বর ব্যবহার করাই ভালো। Re-type Mobile এ আবারও একই মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
 
আপনি যে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে চান, সেই কেন্দ্র সিলেক্ট করুন। এখন এক্সাম সেন্টার যেটা দেবেন, সেই সেন্টারেই প্রিলিমিনারি ও রিটেন পরীক্ষা দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষা যদি ইংরেজি মাধ্যমে দিতে চান, তাহলে এই ঘরে ক্লিক করুন। অন্যথায় ক্লিক করবেন না। কারণ, পরবর্তী সময়ে ভার্সন পরিবর্তন করতে পারবেন না। ওপরের সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে Next বাটন চাপুন। আপনার সামনে পার্ট-২: শিক্ষাগত যোগ্যতা–সংবলিত একটা পেজ ওপেন হবে। আবার পূরণ করা শুরু করুন।

সার্টিফিকেট অনুসারে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নাম, বোর্ড, রোল, রেজাল্ট, গ্রুপ ও পাসের সাল লিখুন। 

মনে রাখতে হবে, এসএসসি ও এইচএসসির ক্ষেত্রে বোর্ড ও গ্রুপের ঘরে যদি কেউ Others অপশন পূরণ করে, তাহলে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে (ক্যাডার) লিখিতভাবে জানাতে হবে।
 
সার্টিফিকেট অনুসারে স্নাতক পরীক্ষার নাম, বিষয়, রেজাল্ট, পাসের সাল এবং কত বছর মেয়াদি কোর্স, সেটা লিখুন। যাঁরা অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করছেন, তারা পরীক্ষা শুরু ও শেষের তারিখ লিখুন। মনে রাখবেন, ২০১৫ সালের পরীক্ষা সেশনজটের কারণে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হলেও আপনার পাসের সাল ২০১৫।
 
স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে টিক চিহ্ন দিন। তারপর সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বিষয়, রেজাল্ট, পাসের সাল এবং কত বছর মেয়াদি কোর্স, সেটা লিখুন। মনে রাখবেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে বিষয়ের ঘরে যদি কেউ Others পূরণ করেন, তাহলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে (ক্যাডার) লিখিতভাবে জানাতে হবে।

Additional Qualification for Teachers Training College প্রযোজ্য হলে টিক চিহ্ন দিন। এরপর সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, রেজাল্ট ও পাসের সাল লিখুন।
 
Post Related Subjects শুধু টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ও বোথ ক্যাডারদের জন্য এ অপশন প্রযোজ্য, জেনারেলদের জন্য নয়। আপনার সাবজেক্ট সিলেক্ট করুন।
 
ওপরের সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে Next বাটন চাপুন। আপনার সামনে পার্ট-৩: Cadre Option সংবলিত একটি পেজ ওপেন হবে।

এই অংশে প্রার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী ক্যাডার তালিকা তৈরি করতে হবে।

এই অংশে প্রার্থীর পূরণকৃত সব তথ্য দৃশ্যমান হবে এবং কোনো ভুলত্রুটি হলে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যাবে। এখানে প্রার্থীর 300x300 পিক্সেলের একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট) ও 300x80 পিক্সেলের একটি স্বাক্ষর (সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট) নির্ধারিত বক্সে আপলোড করে আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট বা জমা দিতে হবে। বলে রাখা ভালো, স্বাক্ষর মানে প্রার্থীর হস্তলিখিত চিহ্ন, এটি প্রার্থীর বাংলা বা ইংরেজি নাম বা নামের অংশ হতে পারে। তবে স্বাক্ষর যথাসম্ভব ছোট হওয়া ভালো। বিসিএসের সব প্রক্রিয়ায় প্রার্থীকে দীর্ঘদিন এবং অনেকবার এই স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে।

আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার পর User ID সংবলিত একটি Applicants Copy দৃশ্যমান হবে। Applicants Copy ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। User ID ব্যবহার করে যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করে টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। ফি জমাদান সম্পন্ন হলে টেলিটক থেকে একটি Password দেয়া হবে। User ID ও Password ব্যবহার করে প্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড ও সংরক্ষণ করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস