রাবির বন্ধ ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২০ ১৪২৭,   ১৯ রজব ১৪৪২

রাবির বন্ধ ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৯ ১৮ জানুয়ারি ২০২১  

রাবির বিভিন্ন জায়গায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে ফেনসিডিল, মদ ও বিয়ারের খালি বোতল।

রাবির বিভিন্ন জায়গায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে ফেনসিডিল, মদ ও বিয়ারের খালি বোতল।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে সবুজের এক বিশাল সমারোহ। হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখার দিক দিয়ে যেমন সেরা তেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও অতুলনীয়। কিন্তু মাদকের ছড়াছড়িতে সেই সৌন্দর্য এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে ফেনসিডিল, মদ ও বিয়ারের খালি বোতল। ফলে নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ।

করোনার সংক্রমণরোধে গত বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল। এই সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গাকে মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে ফেলেছে মাদকসেবীরা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও এসব জায়গায় এসে মাদক সেবন করছে বলে অভিযোগ করেছেন  শিক্ষার্থীরা। 

সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ মাঠ, শেখ রাসেল চত্বরের মাঠ (ইবলিশ চত্বর), পশ্চিমপাড়া, নবাব আব্দুল লতিফ হলের মাঠের হেলিপ্যাড, শহীদ হাবিবুর রহমান মাঠ, স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের পেছনে তুঁতবাগান এলাকায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের পশ্চিম পাশে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গোরস্তান এলাকা, কৃষি প্রকল্পের গবেষণা মাঠ, চারুকলা ও কৃষি অনুষদ সংলগ্ন মাঠ ও রাস্তার পাশেসহ বিভিন্ন স্থানে ফেনসিডিল, বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্যের খালি বোতল পড়ে আছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুঁত বাগানে মাদকসেবন হচ্ছে এমন খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশসহ সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু খবর পেয়ে আগেই স্থান ত্যাগ করে মাদকসেবীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডি সেখান থেকে ৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এবং ১৫টি ফেনসিডিলের খালি বোতল উদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বাংলায় প্রবাদ রয়েছে ‘সর্ষের মধ্য ভূত’। সর্ষের মধ্য যদি ভূত থাকে তাহলে সেটা দিয়ে ভূত তাড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গার্ড, কর্মচারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের মাধ্যমেই মাদকগুলো ক্যাম্পাসে ঢুকে। অথচ তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে সব সময়। তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, মাদক মেধা বিকাশের অন্তরায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় মাদকের অবাধ বিচরণ খুবই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে অবাধে মাদকে ঢুকছে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার। মাদক চোরাচালানকারী ও সেবনকারী উভয়কেই আইনের আওয়াত নিয়ে এসে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকায় কয়েকজন কর্মচারীকে এরইমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, যারা মাদক সেবন করে তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধরা পড়লে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। মাদক নির্মূলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযান চালু রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম