গৌরব অর্জনে পঞ্চাশ পেরোলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গৌরব অর্জনে পঞ্চাশ পেরোলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ফারুক রহমান, জাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৪ ১২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২২:০২ ১২ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ১২ জানুয়ারি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। খ্যাতি আর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে একান্ন বছরে পদার্পণ করলো দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। এরপর ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকার পূর্বনাম অনুসারে রাজধানীর অদূরে সাভারে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাস হলে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রতিবারের মতো এবারও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে করোনার কারণে সব কর্মসূচি অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে।

৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অর্থাৎ সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে ক্যাম্পাস। এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এছাড়া আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও শিক্ষকদের নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনলাইনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বর্তমান শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা হবে।

প্রতিষ্ঠালগ্নে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩৪টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটে এখানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন। শিক্ষক রয়েছেন সাড়ে সাতশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৪ সালে দেশের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে ২০১৮ সালে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব দেয়া হয়। দেশের প্রথম নারী রেজিস্ট্রারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের আগে আরো ১৭ জন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রখ্যাত রসায়নবিদ অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত কবি সৈয়দ আলী আহসান, লোকসাহিত্যবিদ মজহারুল ইসলাম, লেখক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আ ফ ম কামালউদ্দিন, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আব্দুল বায়েস, আলাউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন অধ্যাপক সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, লেখক হায়াত‍ মামুদ, লেখক হুমায়ুন আজাদ, নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি মোহাম্মদ রফিক, অধ্যাপক মুস্তাফা নূরুল ইসলাম, আবু রুশদ মতিনউদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ইতিহাসবিদ বজলুর রহমান খান, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আনু মুহাম্মদ প্রমুখ।

সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো স্মৃতিধন্য করেছেন হুমায়ুন ফরিদী, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মুর্তজাসহ আরো অনেকে।

এখানেই রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে বিখ্যাত স্থপতি হামিদুজ্জামান খানের নকশায় মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’। আর প্রধান ফটক হয়ে একটু সামনে এগোলেই দেখা যাবে ‘অমর একুশ’ ভাস্কর্য। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নামে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মুক্তমঞ্চ।

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় গবেষণা কেন্দ্র ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রটিও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শীতের অতিথি পাখির আবাসস্থল হিসেবেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে দেশব্যাপী। এছাড়া প্রতিবছর পাখি মেলা, প্রজাপতি মেলা, হিম উৎসবসহ নানা আয়োজন হয়ে থাকে।

৫০ বছরের পথচলায় শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন খাতে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। দেশের ক্রান্তিলগ্নেসহ নানা যৌক্তিক আন্দোলনে প্রতিবাদের আরেক নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর। সকলের প্রত্যাশা নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যাবে জাহাঙ্গীরনগর। শুভ জন্মদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেডএম