ছাত্রজীবনেই মাসে আয় লাখ টাকা!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

ছাত্রজীবনেই মাসে আয় লাখ টাকা!

আশিক ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০০ ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:২১ ২৮ অক্টোবর ২০২০

মতিউর রহমান বাড়িতে থেকে খামারে মুরগি পালন শুরু করেছেন

মতিউর রহমান বাড়িতে থেকে খামারে মুরগি পালন শুরু করেছেন

করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীজুড়েই সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারা সূচিত হয়েছে। বিশেষত তরুণরা এগিয়ে এসেছেন নানামুখী সৃজনশীল কর্মে। উদ্যোগী হয়েছেন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। স্বাবলম্বী হতে পথ দেখিয়েছেন কেউ কেউ। 

তাদেরই একজন মতিউর রহমান। পড়ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষে। তবে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে ঘরে বসে থাকেননি। বাড়িতে থেকে খামারে মুরগি পালন শুরু করেছেন তিনি। 

এরইমধ্যে বেশ সফলও হয়েছেন, ডিম বিক্রি করে আয় করছেন আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। আয় আরো বাড়বে এমন আশা মতিউরের। খামারে এই মুরগি পালনে ছেলের এমন সফলতা দেখে উচ্ছ্বসিত পরিবার।

মতিউরের বাড়ি কিশোরগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে কটিয়াদি উপজেলার বনগ্রামে। সেখানে ১২ বিঘা জমিতে একটি পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। আর পুকুরের উপর ভাসমান তিনটি মুরগির শেড। সেখানে লেয়ার মুরগি পালন করা হচ্ছে। মুরগির বিষ্ঠা পুকুরে মাছের খাবার যোগান দিচ্ছে। এভাবেই সমন্বিত পদ্ধতিতে হচ্ছে মাছ চাষ ও মুরগি পালন।

মতিউর শুনাচ্ছিলেন সেসব সফলতার গল্প। তিনি বলেন, গত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন ধাপে ধাপে ছুটি বৃদ্ধি করা হয়। সময় কাটছিল না। বেশির ভাগ সময় মন খারাপ থাকতো। একদিন শরীফ চাচা পরামর্শ দেয়, সময় কাটানোর জন্য মুরগি পালন শুরু করতে। এতে সময় ভালো কাটবে, লাভবানও হওয়া যাবে। চাচার দেয়া পরামর্শে কাজ শুরু করি। বাবা সহযোগিতা করেছেন, তার সহযোগিতায় প্রথমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা লোন করি। বাড়ির পাশে একটি পুকুরে দুটি শেড তৈরি করি। প্রতিটি শেডে এক হাজার করে মুরগি পালন শুরু করি। দুমাসের মাথায় কিছু মুরগি ডিম দিতে শুরু করে। এখন প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ মুরগি ডিম দিচ্ছে। পাইকারি দামে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে ডিম বিক্রি করছি।

বর্তমানে ডিমের বাজার খুব ভালো। ১০০টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। প্রতিদিন মুরগির খাবার, ওষুধ, পরিবহনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ হচ্ছে আট-নয় হাজার টাকা। সব খরচ বাদে হিসেব করলে দেখা যাবে প্রতিমাসে আনুমানিক দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো আয় হচ্ছে। ভবিষ্যতে আয় আরো বাড়বে বলে আশা মতিউরের। 

তিনি আরো বলেন, মুরগি পালনের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো না। আর এব্যাপারে কোন প্রশিক্ষণও গ্রহণ করিনি। তবে গ্রামে চাচার লেয়ার মুরগির খামার ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলে বাড়ি গিয়ে চাচার খামারে বসে আড্ডা দিতাম, বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতাম। সেখান থেকে কিছুটা উপকৃত হয়েছি। সর্বক্ষণ আমার পাশে থেকে কাজটা সহজ করে দিয়েছেন ওই চাচা। ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে পরে আরো একটি শেড নির্মাণ করেছি। সেখানে আরো এক হাজার মুরগি পালন শুরু করেছি। পাশাপাশি পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুঁটিসহ দেশি মাছের চাষ করছি। সেখান থেকেও ভালো মুনাফা আসবে।
 
ব্যাংক থেকে নেয়া ৫ লাখ টাকার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এরইমধ্যে পরিশোধ করেছি। বাকি টাকা খুব শিগগিরই পরিশোধ করে দিবো। প্রথমে বাবা আর আমি দুজনে মিলে খামারে কাজ করলেও এখন আর পেরে উঠতে পারছি না। তাই দুজন কাজের লোক রাখা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম