বিপাকে জাবির দোকান মালিক-কর্মচারীরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

বিপাকে জাবির দোকান মালিক-কর্মচারীরা

জাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৪ ২০ অক্টোবর ২০২০  

ক্যাম্পাসের সব দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন মালিক-কর্মচারীরা

ক্যাম্পাসের সব দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন মালিক-কর্মচারীরা

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৮ মার্চ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরাও আবাসিক হল ছেড়ে চলে যান। এ কারণে ক্যাম্পাসের সব দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন মালিক-কর্মচারীরা।

তবে বন্ধ দীর্ঘ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্যাম্পাসকেন্দ্রীক ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। বন্ধের প্রথমদিকে কিছু সাহায্য-সহযোগিতা পেলেও এখন তা মিলছে না; আবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কর্মস্থলেও ফিরতে পারছেন না।

দীর্ঘ এই বন্ধে নিজেদের সঞ্চয়ের শেষটুকুও খরচ করে ফেলেছেন অনেকে। অনেকে দিনাতিপাত করছেন ধার-দেনা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও বাইরে তালিকাভুক্ত দোকান রয়েছে ২২২টি। কিছু দোকান ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকলেও অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট, প্রান্তিক গেট ও বিশমাইল গেটে অবস্থিত। মালিক ছাড়াও প্রায় প্রতিটি দোকানেই কর্মচারী রয়েছেন।

এই দীর্ঘ বন্ধে অল্প কিছু দোকান মালিক তাদের কর্মচারীদের অর্ধেক বা আংশিক বেতন দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি দোকান চালু হলেও বেচাকেনা না থাকায় দোকান মালিকরাও অর্থ সংকটে পড়েছেন।

বটতলা ও গেরুয়া এলাকায় ছেলেদের হলগুলোর নিয়ন্ত্রণে আরও ৭০টির বেশি খাবারের দোকান রয়েছে। মালিক-কর্মচারীদের আয়ের উৎস এসব দোকান থেকেই। ছয় মাস ধরে এগুলো বন্ধ রয়েছে। বটতলার একাধিক দোকান মালিক বলেন, আমাদের সবার অবস্থাই খুব খারাপ। অনেকে তাদের জমা (পুঁজি) ভেঙে চলছেন।

অনেকে এরইমধ্যে আয়ের ভিন্ন পথ ধরেছেন। কেউ চালাচ্ছেন রিকশা, কেউ ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউ বা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ চা-মুড়ির দোকান। তবে অন্তত তিনশ' মানুষ এখনও আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ সংলগ্ন মুরাদ চত্বরে একটি টং দোকান চালাতেন কালাম মিয়া। ছয় মাস ধরে তিনি বেকার। অন্য কোনো আয়-রোজগারের পথও নেই। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসারে সম্প্রতি তার ঘরে এসেছে আরেক নতুন অতিথি। একদিকে নবজাতক, অন্যদিকে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা। এমন অবস্থায় কালাম এখন দিশেহারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সালাম মিয়ার খাবারের দোকানের কর্মচারী মো. সিরাজ। সালাম মিয়ার বাসায় থেকেও দোকানে কাজ করতেন তিনি। করোনায় দোকান বন্ধের পরও তার কাছেই ছিলেন। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় সালাম মিয়ার আর্থিক অবস্থাও খারাপ হয়ে যায়। তাকেই চলতে হয় অন্যের ধারের ওপর। তাই সেখান থেকে সিরাজ চলে এসেছেন। অসুস্থ মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে খুবই কষ্টের জীবন পার করছেন সিরাজ।

মো. সিরাজ বলেন, ছয় মাস ধরে বেকার। কিছুদিন অন্যদের কাছ থেকে ধার-দেনা নিয়ে চলেছি।

অনেক দোকানি আছেন যারা আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে কারো কাছে ধার চাইতে পারছেন না। নিজের জমানো টাকা ভেঙে এতদিন চলেছেন। এখন তাও শেষ। পরিবার নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন তারা। তবে হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া ও ইসলামনগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ চা, ঝালমুড়ি, পুরি-শিঙাড়ার দোকান দিয়েছেন। এ ছাড়া কর্মচারীদের কেউ রিকশা চালানো, কেউ গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

বটতলার একাধিক দোকান মালিক বলেন, আমাদের সবার অবস্থাই খুব খারাপ। অনেকে তাদের জমা (পুঁজি) ভেঙে চলেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম