দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষার সর্বোচ্চ বাতিঘর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় 

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষার সর্বোচ্চ বাতিঘর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় 

তেহসিন আশরাফ প্রত্যয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪২ ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:১১ ১৭ অক্টোবর ২০২০

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়গুলো যেখানে অস্থিরতা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ অনিশ্চিতের বেড়াজালে আবদ্ধ সেখানে ব্যতিক্রম দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার সর্ববৃহৎ বাতিঘর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। দলীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি অবস্থা জারি, সবাইকে হল ত্যাগের নির্দেশ, বিগত ৩০ বছরে এসব দৃশ্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেখতে হয়নি। দেশে ও বিদেশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠ‚ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সর্বজনবিদিত।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের নিরলস প্রচেষ্টা ও দীর্ঘদিনের আন্দোলন। ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট ড. গোলাম রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমে প্রকল্প পরিচালক, পরে প্রথম ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি বুয়েটের অধ্যাপক ছিলেন। 

১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে চারটি ডিসিপ্লিনে ৮০ শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।  সকলের প্রিয় এই ক্যাম্পাস সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ৩০ বছর পার করেছে।

ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ইতিহাস জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. আনিসুর রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পর ছাত্র-ছাত্রীরা ভিসির কাছে দাবি জানান, রাজনীতির নামে তারা লাশের মিছিল আর অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে-শুনতে চান না। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এ দাবি মেনে নেয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি স্কুল (অনুষদ) রয়েছে। মোট ২৯টি ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, এমফিল এবং পিএইচডি প্রদান করা হয়।

রয়েছে তিনটি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ভিসির বাসভবন, পাঁচটি আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৫টি বাসভবন, অগ্রণী ব্যাংক ভবন, ডাকঘর, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মন্দির, সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন ও শার্লী ইসলাম গ্রন্থাগার ভবন। 

খুবিতেই প্রথম বিবিএ ডিগ্রি চালু হয়। এ ছাড়া বুয়েটের পর ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে এখানে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়। প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সিজিপিএ সিস্টেম চালু হয়। বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা প্রায় পাঁচশ। শিক্ষার্থী প্রায় সাত হাজার। শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তার বিকাশ, সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ ও সংস্কৃতিচর্চার জন্য এখানে ২৫টি সংগঠন রয়েছে।

অনিকেত প্রান্তরের স্তম্ভগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা যেখানে আড্ডা দেয়, সেটা মুক্তিযুদ্ধের বড় এক ইতিহাসের সাক্ষী। আর যে ক্যাম্পাসে আমরা পড়াশোনা করি, তার পুরোটাই ঘিরে আছে এক বধ্যভূমির স্মৃতি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের দ্বিতল শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভবন, যেটি পুরোনো প্রশাসনিক ভবন নামে পরিচিত, এই ভবনটি থেকে চালানো হতো তৎকালীন বেতার কার্যক্রম। যুদ্ধকালীন এই রেডিও স্টেশন ছিল একটি নির্যাতন ও গণহত্যা কেন্দ্র।

ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 

তিনি আরো বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির দিকে জোর দেয়া হয়েছে। চলতি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০২১ সালের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যমত শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণাঙ্গরূপ পরিগ্রহ করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম