মেসভাড়া মওকুফের দাবিতে চবির শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মেসভাড়া মওকুফের দাবিতে চবির শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

চবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৩ ১ অক্টোবর ২০২০  

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী চবির শিক্ষার্থীরা

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী চবির শিক্ষার্থীরা

মেসভাড়া মওকুফের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী দেওয়ান তাহমিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পিসিপির ( জেএসএস) সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেন চাকমা,  পিসিপির (ইউপিডিএফ) তথ্য ও প্রচার বিষয়ক সম্পাদক রোনাল চাকমা, লোকপ্রশাসন বিভাগের নিলয়, ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফী নিতু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের চবি শাখার ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্বে একধরনের অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে যথারীতি শিক্ষার্থীদের উপরও। ‘৭৩’ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা হলেও এর আবাসন সংকট এখনো তুঙ্গে। এই করোনার সময়ে বাসা-মেস-কটেজ ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে তীব্র সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। এই সংকট নিরসনের দাবিতে অনেকদিন ধরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ’ব্যানারে মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করছি আমরা। আশাকরি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন আমাদের অভিভাবকরা।

সমাবেশে বক্তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা যারা করোনাকালীন মেস-কটেজ-বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে অপারগ তাদের তালিকা তৈরি করে আর্থিক সংকট নিরসনের দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে, মেস-কটেজ-বাসা ভাড়া সংকট নিরসনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে ও বন্ধ ক্যাম্পাসে মেস-কটেজসমূহে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছি। এখানে আমরা অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রশাসন আমাদের অভিভাবক হিসেবে আমাদের প্রতি সুনজর রাখেনি। অনেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কথার মিল না হওয়ায় মেস ছেড়ে দিতে হয়েছে। আমরা অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়টি সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেস-কটেজ-ভাড়া সংক্রান্ত সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়ার কাছে তিনদফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ