বশেমুরবিপ্রবি’র ঝোপে কোটি টাকার খাট

ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৯ ১৪২৭,   ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বশেমুরবিপ্রবি’র ঝোপে কোটি টাকার খাট

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৩ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঝোপ-জঙ্গল-লতা ঘিরে ফেলেছে খাটগুলো

ঝোপ-জঙ্গল-লতা ঘিরে ফেলেছে খাটগুলো

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার খাট। এসব আসবাবপত্র ঝোপ-জঙ্গল-লতা ঘিরে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ৮০০ স্টিলের খাট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসির উদ্দিনের সময়ে কেনা এসব আসবাবের মধ্যে প্রায় ৮০০টি স্টিলের খাট খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ও খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে ১১টি ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে মোট চার কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬২৫ টাকা মূল্যের দুই হাজার ৬৭০টি স্টিলের খাট কেনা হয়। এরমধ্যে এক হাজার ৮৭০টি খাট বিভিন্ন হলের কক্ষে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি খাটের মূল্য পড়েছে ১৬ হাজার ৭৮৯ টাকা। কিন্তু বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব স্টিলের খাট সর্বোচ্চ ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, একাডেমিক ভবনের সামনে উন্মুক্ত স্থানে ৩০০ খাট পড়ে আছে। ওই ভবনের পেছনে একইভাবে রাখা হয়েছে আরো ৫০০ খাট। লতাপাতায় ছেয়ে গেছে খাটগুলো। অনেকগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে কোটি টাকার খাট

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, সরকারি অর্থ লুটপাট করতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাট বাজার দামের চেয়ে বেশি দিয়ে কেনা হয়েছিল। তদন্ত করে এ ব্যাপারে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনায় এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় এসব আসবাব নষ্ট হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক এমএ সাত্তার বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসির উদ্দিনের নির্দেশেই এসব ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছিল। এমনকি পরবর্তী সময়ে আমাকে ওয়ার্ক অর্ডারের জন্য অগ্রিম টাকা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আমি অগ্রিম টাকা দিতে রাজি হইনি এবং প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করি।

আসবাব সংরক্ষণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরের দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুল্লাহ রাজু বলেন, স্টোরের জায়গা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনকে গত দুই বছরে পাঁচবার চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে আমরা কাঠের বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তবে এখনো স্টোরের জায়গা পর্যাপ্ত নয়। স্টোরের জায়গা বাড়ানো হলে অবশিষ্ট আসবাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব বলেন, এসব আসবাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রপার্টি, জনগণের প্রপার্টি, দেশের প্রপার্টি। এগুলো এভাবে নষ্ট হতে দেখে আমি অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ণ। এভাবে খোলা আকাশের নিচে খাটগুলো রাখায় নষ্ট হচ্ছে, কিছু চুরি হয়েছে বলেও শুনেছি। আমি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আসবাব সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আরো কিছু মূল্যবান আসবাব ও সোফা অস্থায়ী স্টোর রুমে নষ্ট হচ্ছে। সেগুলো সংরক্ষণ করছি। আগেই এ ব্যাপারে ইউজিসি ও দুদক তদন্ত করেছে। এ বিষয়ে আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। রিজেন্ট বোর্ডে আলোচনার মাধ্যমে এসব আসবাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর