ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল ফোনালাপ: রেজিস্ট্রারের গ্রেফতার দাবি

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল ফোনালাপ: বহিস্কৃত রেজিস্ট্রারের গ্রেফতার দাবি

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৪ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে পদ হারানো রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের গ্রেফতারসহ শাস্তির দাবি উঠেছে।

এর আগে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর গণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি বৈঠকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। 

এদিকে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দাবি, রেজিস্ট্রার পদ থেকে দেলোয়ার হোসেনের এই অব্যাহতিকে লোক দেখানো এবং ভয়ানক অপরাধ থেকে তাকে রক্ষার চেষ্টা।

এ প্রসঙ্গে গবি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. নজরুল ইসলাম রলিফের দাবি, অবিলম্বে দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে তার সব অনৈতিক আচরণ, দুর্নীতি ও ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন নিপীড়নের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরপরই কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক দেলোয়ার হোসেনের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া গবি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি (সহ-সভাপতি) জুয়েল রানা বলেছেন, এমন গুরুতর অভিযোগের শাস্তি হিসেবে কেবল অব্যাহতি দেয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তার অপকর্মের সকল শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

এদিকে রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের বিচার দাবিতে এরইমধ্যে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপ খুলে অনলাইনে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

জানা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে আসেন মো. দেলোয়ার হোসেন। শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে যৌন নিপীড়নের‌ চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ আসলেও তা ধামাচাপা দেয়া হয়।

সম্প্রতি মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীর অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস হয়। ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ফোনালাপে ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কথাবার্তা বলেন এবং অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন রেজিস্ট্রার। ফোনালাপ ফাঁসের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাস্টি বোর্ডের সব সদস্যের সম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০১৭ সালেও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ ইউজিসিতে দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানায় ইউজিসি।

এসব বিষয়ে জানতে অব্যাহতি পাওয়া রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তী সময়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর