একুশে প্রাণোচ্ছল হাবিপ্রবি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

একুশে প্রাণোচ্ছল হাবিপ্রবি

মিরাজুল মিশকাত, হাবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩১ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

করোনা ঘরে আটকে রাখলেও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ কেড়ে নিতে পারবে? এর উত্তর খুঁজতে খুব বেশি কষ্ট করার প্রয়োজন হবে না। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘুরলেই মিলবে উত্তর। 

ফেসবুকের একেকটি স্ট্যাটাস, কমেন্টস আর রিপ্লাই মনে করিয়ে দেয় আজ ১১ সেপ্টেম্বর। হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এরইমধ্যে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির ডকুমেন্টারি সবার নজর কেড়েছে। হাবিপ্রবি প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন অনলাইন প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠার একুম বছরে এক প্রাণোচ্ছল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সবার কাছেই। 

কৃষি অনুষদের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াদ খান বলেন, তেভাগা আন্দোলনের নেতা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ। তিনি উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান। তার নামে ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রংপুর বিভাগের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ও হাবিপ্রবি। এরইমধ্যে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।

সুযোগ-সুবিধা: মাত্র একটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাবিপ্রবিতে ২৪টি ডিগ্রী দেয়া হচ্ছে। ৯টি অনুষদে আছে ৪৫টি বিভাগ। ৫টি একাডেমিক ভবন (একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণাধীন) রয়েছে। কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ দুটি জামে মসজিদ রয়েছে। ছেলেদের জন্য রয়েছে ৫টি ছাত্র হল (একটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য) ও ৪টি ছাত্রী হল (একটি নির্মাণাধীন)। অতিথি আপ্যায়নে রয়েছে উন্নতমানের দুটি গেস্ট হাউজ, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম। প্রায় এগারো হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৩১৪ জন শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বড় বাস, মিনি বাস, এসি বাস, মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপসহ প্রায় ৪০টি যানবাহন রয়েছে। ১০ হাজারের বেশি বইয়ের একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। 

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েই ছাত্র থেকে ফসল শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক হয়েছেন সুব্রত কুমার প্রামানিক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কাছ থেকে অবলোকন করার সুযোগ হয়েছে হাবিপ্রবিকে। দ্বিতীয় বাড়ি এবং দ্বিতীয় পরিবার হিসাবে মেনে নেয়ায় ভালোবাসার এ প্রতিষ্ঠান টিকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে দেখতে পেয়েছি। এর অনেক ভালো-মন্দের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রাণের এ প্রতিষ্ঠানটির জন্য রইল নিরন্তর শুভকামনা।

ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সব কাজ করা সহজ ছিলো না। তবুও হাবিপ্রবি যাতে কোনো দিক দিয়েই পিছিয়ে না থাকে সেজন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। যার মধ্যে অনেক উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে আবার বেশ কিছু দৃশ্যমান হতে সময় লাগবে। 

তিনি আরো বলেন, এছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে ছাত্রী হল তৈরি ও ১০তলা একাডেমিক ভবনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসবের কাজ হলে ছাত্রীদের আবাসন সংকট দূর হবে, শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সংকট কেটে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম