ফিরে দেখা: মুহাম্মদ বিন কাসেম

ঢাকা, সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮,   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফিরে দেখা: মুহাম্মদ বিন কাসেম

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ১৮ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসেমকে ৭১৫ সালের আজকের এই দিনে (১৮ জুলাই) মাত্র বিশ বছর বয়সে খলীফা সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিকের আদেশে হত্যা করা হয়।

আনুমানিক ৬৯৫ সালে বর্তমান সৌদি আরবের তায়েফের সাকীফ গোত্রে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার চাচা ছিলেন তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের ত্রাস হিসেবে পরিচিত উমাইয়া গর্ভনর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।

শৈশবেই মুহাম্মদ বিন কাসিম তার পিতাকে হারান। মুহাম্মদের মাতা নিজেই তার পিতৃহীন পুত্রের শিক্ষার ভার গ্রহণ করেন। শিক্ষা সমাপান্তে মুহাম্মদ বিন কাসিম সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি তার চাচাত বোন ও হাজ্জাজ কন্যা যুবাইদাকে বিবাহ করেন।   

সিন্ধুর রাজা দাহিরের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহারে ক্রুদ্ধ হয়ে হাজ্জাজ সিন্ধুর বিরুদ্ধে একটি অভিযান প্রেরণ করেন। কিন্তু হাজ্জাজের সিন্ধুতে প্রেরিত পরপর দুইট অভিযান বিপর্যস্ত হয়। তৃতীয়বার অভিযান প্রেরণের সময় হাজ্জাজ সতর্কতার আশ্রয় নেন। সিন্ধুতে অভিযান প্রেরণের সময় তিনি বাছাই করে সাহসী ও অভিজ্ঞ সৈন্যদের নিয়ে বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি বাছাই করেন তার ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে। যদিও তখন তার বয়স ছিলো খুবই কম, তথাপি তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন অভিজ্ঞ সেনানায়ক। ৭১১ সালে মাত্র ষোলো বছরের মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে এই বাহিনী সিন্ধু বিজয়ের জন্য বেরিয়ে পড়ে।  

মুহাম্মদ বিন কাসিম তার বাহিনীকে দুইভাগে ভাগ করে অগ্রসর হন। একভাগ মাকরান সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে সিন্ধুতে প্রবেশ করে। অপর অংশটি জলপথে সিন্ধুর দেবল বন্দরে উপস্থিত হয়। ৮৯ হিজরীর রবিউল আউয়ালে তিনি দেবল অবরোধ করেন। শীঘ্রই তার হাতে দেবলের পতন ঘটে। দেবলের পর একে একে সিন্ধুর বিভিন্ন শহরের তার হাতে পতন ঘটে। 

৭১২ সালে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু নদী অতিক্রম করেন এবং সিন্ধুর তৎকালীন রাজধানী ব্রাক্ষ্মনাবাদের নিকট রাজা দাহিরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। যুদ্ধে রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হন। রাজা দাহিরকে পরাজিত করার পর তিনি রাজধানী ব্রাক্ষ্মনাবাদের দিকে অগ্রসর হন এবং তা দখল করে নেন। সেখান থেকে তিনি অপহৃত শ্রীলংকা থেকে আগত মুসলিম নারী ও শিশুদের উদ্ধার করেন। ব্রাক্ষনাবাদ দখলের পর তিনি দ্রুত সিন্ধুর বাকি অংশ এবং সিন্ধুর অধীন দক্ষিণ পাঞ্জাবের মুলতান দখল করে নেন।  

সিন্ধু বিজয়ের পর মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে ন্যায়বিচার ও সাম্যের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। জাতপাতের নির্মমতায় বিপর্যস্ত সিন্ধুর মানুষের কাছে এটি ছিলো সম্পূর্ণ নতুনতর একটি অভিজ্ঞতা। মুহাম্মদ বিন কাসিম প্রবর্তিত সাম্য ও ন্যায়বিচারের শাসনব্যবস্থার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিন্ধুর জনসাধারণ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। এছাড়া সিন্ধুর অমুসলিম জনসাধারণের কাছেও তিনি দেবতারূপে পূজিত হতে থাকেন। 

মাত্র বিশ বছর; এই সময়ের মধ্যেই মুহাম্মদ বিন কাসিম তার কর্মের দ্বারা ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসের একজন স্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনিই প্রথম মুসলমানদের জন্য ভারতের পথ উন্মোচন করেন। ভারতে আগমনকারী প্রথম মুসলিম সেনাপতি এবং ভারতের প্রথম মুসলিম শাসক হিসেবে ভারতীয় মুসলমানদের কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। প্রতিবছর ১০ রমজান পাকিস্তানে মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের স্মরণে ‘ইয়াউম বাব-উল-ইসলাম’ নামে একটি উৎসব পালন করা হয়।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ